×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • অনেক Bois Locker room-এর চারা ছড়িয়ে সোশাল মিডিয়ায়

    4thPillars ব্যুরো | 08-05-2020

    প্রতীকী ছবি

    দক্ষিণ দিল্লির Bois Locker Room- এর অকথ্য ভাষায় চ্যাট এবং রেপ কালচার নিয়ে বর্তমানে সারা দেশ সরগরম। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই এই একইরকম বিভিন্ন প্রাইভেট গ্রুপ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে একইভাবে বডি শেমিং বা রেপ কালচার নিয়ে আলোচনা হয়। অপরাধ একটা সীমা ছাড়ানোর পর এবং নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সাইবার সেল পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু এই রেপ কালচারের সূচনা আসলে হয় আমাদের চোখের সামনেই, অনেকটা প্রচ্ছন্নভাবে, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে। সেগুলো এত সূক্ষ্ম এবং নিপুণভাবে করা হয়, যে আমাদের চোখেই পড়ে না। কিছু মানুষ স্বল্প পোশাক পরিহিতা মেয়েদের এবং তাঁদের লাস্যময়ী ছবি দেখতেই আসেন গ্রুপে। অকথ্য ভাষায় তাঁরা সর্বসমক্ষে সেক্সিস্ট কমেন্টও করেন।


    গ্রুপে প্রবেশ করার আগে নিয়মকানুনের মধ্যে লেখা থাকে, "এই গ্রুপে যৌনতা নিয়ে সুস্থ আলোচনা করা হয় এবং এই সংক্রান্ত সমাজে প্রচলিত সমস্ত ট্যাবু ভাঙা হয়।' আপনি নিজের থেকে এই ধরনের গ্রুপে প্রবেশ করতে পারবেন না। সিক্রেট গ্রুপ এগুলো। শুধুমাত্র অ্যাডমিন যদি ডাকেন, তবেই পারবেন আপনি এই গ্রুপের মেম্বার হতে। 
    গ্রুপে কী নিয়ে কথা হয়? না, ঘোষিত নিয়ম অনুসারে তো নয়ই, বরং গ্রুপে পোস্টের ভাষা একেবারেই "পর্নোগ্রাফিক'। যে কোনও মেয়ের ছবি তাঁকে না জিজ্ঞেস করেই এই গ্রুপে ইচ্ছা মতো ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করা হয়। চলতে থাকে অকথ্য ভাষায় বডি শেমিং। এই গ্রুপে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সফ্ট পর্নোগ্রাফি এবং সেক্স চ্যাট নিয়ে অনবরত চর্চা করেন।

    ফেসবুকে এই পেজের একটি গ্রুপও রয়েছে। সেখানেও শুরুতেই নিয়মাবলীতে লেখা, "কেউ বডি শেমিং করলে, তখনই গ্রুপ থেকে বের করা হবে সেই ব্যক্তিকে।' প্রথম পোস্ট একজন ফোটোগ্রাফারের। তিনি একজন মডেলের লাস্যময়ী ভঙ্গিমায় ছবি পোস্ট করেছেন। কমেন্ট বক্সে প্রথম কমেন্ট, "দারুণ কার্ভ, পারফেক্ট ফিগার, হোয়াটস হার নেম?' তারপর এমনই কিছু কথা লেখা, যেগুলি পরিষ্কার একজন ধর্ষকের মানসিকতার পরিচয় দেয়। তার কিছু প্রমাণ রইল এর সঙ্গেই।

    মানসিকতা পরিবর্তন করতে হলে গোড়া থেকেই নির্মূল করতে হবে সোশাল মিডিয়ার এই ধরনকে। চিহ্নিত করতে হবে এইরকম বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপগুলিকে। সবার চোখের সামনেই চলছে বডি শেমিং এবং রেপ কালচারের চর্চা। আমরা সকলেই দেখছি, কিন্তু এড়িয়ে যাচ্ছি। স্ক্রল ডাউন করে এগিয়ে যাচ্ছি নিজের পছন্দের পোস্টের দিকে। এভাবেই বেঁচে যায় প্রতিদিন এই অপরাধের বীজগুলি। এগুলোই ফসল হয়ে বাড়তে থাকলে সমাজে মেয়েদের হিউমিলিয়েশন, বডি শেমিং, থ্রেট, রেপ বা সার্বিক অর্থে মেয়েদের ভয়ের কারণ বাড়বেই। গ্রুপগুলিকে খুঁজে বের করা এবং এখনই বন্ধ করা, এই মুহূর্তে একমাত্র করণীয়। তা নাহলে রেপ কালচার বন্ধ করা অসম্ভব।

     

    এগুলি সবই সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত আইনের কোনও না কোনও ধারায় অপরাধ। প্রকাশ্যে এলে বা অভিযোগ পেলে শাস্তিও হয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে। কিন্তু কেউ অভিযোগ না করলে পুলিশ আগ বাড়িয়ে এসে সোশাল মিডিয়ার উপর নজরদারি করে না। এই ফাঁকটার সুযোগ নিয়েই অবাধে বেড়ে চলেছে এই ধরনের অপরাধ। বাড়ছে ধর্ষণ সংখ্যাও। ক্রমশ কিশোররাও এই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। অল্প বয়স থেকেই যাঁরা বিভিন্ন নিম্নরুচির আলোচনায় লিপ্ত হচ্ছেন তাঁদের যথাযথ কাউন্সেলিং-এর প্রয়োজন। অনুসন্ধিৎসু কিশোর কৌতূহল মেটাতে না পেরে এবং কোনও অনুশাসন নেই দেখেই ক্রমশ অপরাধের পথে গড়িয়ে পড়ে। আইনের কঠোর এবং সক্রিয় প্রয়োগের পাশাপাশি কিশোর মনস্তত্ত্বের উপর বিজ্ঞানসম্মত নজরদারিই সমাজকে বাঁচাতে পারে।
     


    4thPillars ব্যুরো - এর অন্যান্য লেখা


    কোথা সে সিনেমা হল / কোথা সে শপিং মল / চিরিদিকে ঘোলা জল / করিতেছে খলবল

    অন্তরমুখী সোজা পথ ধরে অজানা গন্তব্যের দিকে যা যা পাওয়ার

    কেন্দ্রের শাসক শুধু ভোটের সঙ্গে রোগ সংক্রমণের সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছে না!

    শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে প্রকাশ্যে খুন কৃষ্ণাঙ্গ। ন্যায়বিচারের দাবিতে পথে নেমে এসেছে গোটা দেশ।

    আলোচনায় বসতে বাধ্য হলেও নতি স্বীকার করছে না সরকার।

    মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা সরকারের, বেঁচে গেল সাধারণ মানুষ‌।

    অনেক Bois Locker room-এর চারা ছড়িয়ে সোশাল মিডিয়ায়-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested