×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • ভিতরটা ঠাণ্ডা হতে হতে প্রাণহীন হয়ে যাবে পৃথিবী!

    শুভস্মিতা কাঞ্জী | 05-07-2021

    প্রতীকী ছবি

    একদিন যদি পৃথিবীটা ঠাণ্ডা হয়ে যায়? কোনও ভূমিকম্প, সুনামি, অগ্নুৎপাত যদি আর না হয়? কোনও বাতাস, অক্সিজেন জল না থাকে? আর পাঁচটা গ্রহের মতোই স্থির, প্রাণহীন হয়ে যায়, তবে? না, সায়েন্স ফিকশনের কল্পনা নয়, সম্প্রতি নেচার জিওসায়েন্স নামক একটি জার্নালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এমনই দাবি করা হচ্ছে। পৃথিবীর গলিত ধাতব কেন্দ্রীয় অংশ ক্রমশ ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। এতদিন ভূপৃষ্ঠের উষ্ণায়ন নিয়েই শুধু চর্চা হত, এবার হয়তো কথা শুরু হবে ভূগোলকের শীতলায়ন নিয়েও!

     

    ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের কিছু সিজ়মোলজিস্ট ভূকম্পন বিশেষজ্ঞ তাঁদের গবেষণায় লক্ষ্য করেছেন পৃথিবীর কেন্দ্রে থাকা গলিত লোহা এবং নিকেল ক্রমশ কঠিন ধাতুতে পরিণত হচ্ছে। গলিত লোহা ধীরে ধীরে কঠিন শিলার আকার নিচ্ছে। কীভাবে তাঁরা বুঝলেন যে এমন পরিবর্তন হচ্ছে? ভূমিকম্প যে কারণে অনুভূত হয়, সেই সিজ়মিক তরঙ্গের সাহায্যে করা গবেষণার মাধ্যমে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

     

    আরও পড়ুন: অপরিকল্পিত নগরায়নের ফল আর্বান সিঙ্কহোল

     

    তবে গোটা কেন্দ্র জুড়েই যে এই ঘটনা ঘটছে এমনটা নয়। পূর্বদিক, অর্থাৎ ইন্দোনেশিয়ার ব্যান্ডা সমুদ্রের (Banda Sea) নিচের অংশে খুব দ্রুত ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে পশ্চিমদিকে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলের নিচে সেই তুলনায় অনেক ধীর গতিতে ঘনীভবন ঘটছে। আর এই এক এক জায়গায় এক এক রকমের গতির কারণে আয়রন ক্রিস্টালাইজেশনের কাজ ত্বরান্বিত হচ্ছে।

     

    পৃথিবীর অভ্যন্তরে, বাইরে কত কীই না হয়। কিন্তু ক’টা জিনিস আমাদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে? ঠিকই। কিন্তু যে তথ্য এই গবেষণায় উঠে আসছে তা মারাত্মক ভাবেই প্রভাব ফেলবে। পৃথিবীর কেন্দ্রে যদি আর গলিত লোহা এবং নিকেল না থাকে, তা যদি কঠিন শিলায় পরিণত হয় তবে পৃথিবীর যে নিজস্ব ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চৌম্বক ক্ষেত্র আছে সেটা নষ্ট হয়ে যাবে। এবং এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড নষ্ট হওয়া মানে বায়ুমণ্ডল আর থাকবে না। অর্থাৎ অক্সিজেন থাকবে না। ফলে পৃথিবীতে মানুষ আর থাকতে পারবে না। এই গ্রহটাও অন্যান্য গ্রহের মতো বাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে ক্রমশ। আর ভূমিকম্প হবে না, অগ্নুৎপাত হবে না। থাকবে না জল। ফলে পৃথিবীর একদম কেন্দ্রে ঘটে চলা এই পরিবর্তন গোটা পৃথিবীকে এমনভাবে বদলে দিতে পারে যে তাতে আর জীবন থাকবে না।  

     

    কিন্তু কেন হচ্ছে এমনটা?  টিএইচকে জৈন কলেজের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপিকা ঋত্বিকা দত্ত জানান, ‘একটা সময়ের পর সব গ্রহই ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা হয়ে যায়। পৃথিবীও হবেতখন এখানেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না। তবে এই ঠাণ্ডা হওয়ার গতি অত্যন্ত ধীর হয়। প্রতি 100 কোটি বছরে 100 ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে। তবে বর্তমানে এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে সেই হার অনেক বেড়ে গিয়েছে। এবং গোটা প্রক্রিয়াটাই অত্যন্ত দ্রুত হারে ঘটছে। কিন্তু কেন, সেটাই এখন গবেষণা করে দেখার বিষয়।'

     


    শুভস্মিতা কাঞ্জী - এর অন্যান্য লেখা


    রসিকতা নয়। কলকারখানা বন্ধ, আকাশ ও সড়কপথে যান চলাচল অনেক কম। সব মিলিয়ে সারা পৃথিবীতেই দূষণের মাত্রা

    হাত ধোওয়া বা স্যানিটাইজ করা উচিত, এই অভ্যেস থাকা অবশ্যই ভাল। কিন্তু অমূলক ভয় থাকা নয়।

    চাঁদের কারণে আগামী দশকে পৃথিবী ভাসতে চলেছে।

    ফ্লিপকার্ট জানায় যে নাগাল্যান্ড ভারতের বাইরে বলে সেখানে ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব না।

    ভরসা, বিশ্বাস, নির্ভরতার গল্প দেখায় সিনেমাটি, আসলে সবসময় ছেড়ে যাব বললেই যাওয়া যায় না।

    বামেদের প্রার্থী তালিকায় তরুণ এবং যুবরা কি পারবেন মানুষের মন জয় করতে

    ভিতরটা ঠাণ্ডা হতে হতে প্রাণহীন হয়ে যাবে পৃথিবী!-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested