×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • কৃষক আন্দোলন যে নতুন দিগন্ত দেখাল

    অমিত ভাদুড়ী | 14-05-2021

    বসন্তের ফুল ফোটাচ্ছে কৃষক আন্দোলন।

    সন্দেহ এবং হতাশার সময়ে, পাবলো নেরুদার একটি লাইন নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন: আপনি সমস্ত ফুল ছিঁড়ে ফেলতে পারেন, তবুও বসন্তের আগমনকে রুখতে পারবেন না।'

     

     

    সরকার সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সব কিছু করেছে। রাস্তাগুলোকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। শহরে ট্র্যাক্টর প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য পরিখা খনন করা হয়েছে। যারা সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তাদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে আহত করতে পেরেকের শয্যাও তৈরি করা হয়েছে সশস্ত্র পুলিশের বিশাল বাহিনী পাহারা দিচ্ছে তথাকথিত জাতির শত্রুদের তাদের দেশদ্রোহী’, ‘আন্দোলনজীবীবলে বর্ণনা করেছেন আমাদের নেতারাসর্বোপরি কোভিড-19 মহামারীর বিশাল দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশে। যদিও বিষয়টা আমাদের দেশনেতাকে সামান্যই বিচলিত করতে পেরেছে কারণ তিনি বিষয়টা অল্পই অনুধাবন করতে পেরেছেন। কেননা তিনি হিন্দু পুরাণ এবং ধর্মীয় আচরনে সম্পূর্ণ আস্থা রাখেন

     

     

    দিল্লি এমন একটি অবরুদ্ধ শহরে পরিণত হয়েছে, যেখানে এই ডিজিটাল যুগেও সংবাদ সীমান্ত পেরিয়ে বাইরে আসতে পারছে না। একমাত্র করোনা ভাইরাসই সেই সীমানা লঙ্ঘন করতে সক্ষম হচ্ছে। একমাত্র একটি সহৃদয় জাতীয় গণমাধ্যম এটি দেখতে পেয়েছে। সরকারি সংবাদমাধ্যম তো দূরের কথা, বেসরকারি মিডিয়াও সরকারি এবং কর্পোরেট তহবিল থেকে প্রাপ্ত বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে আপস করে। লোভনীয় বিজ্ঞাপনগুলির দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে যদি তারা সরকার দ্বারা ঠিক করে দেওয়া সঠিক পথে না আসে, তবে তাদের আইনি হয়রানি ও অতিরিক্ত করের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দেখানো পথে না হাঁটলে যে আর্থিক ক্ষতি এবং হয়রানির শিকার হতে হবে, তা এখন থেকে স্পষ্ট

     

    আরও পড়ুন: সম্ভাবনাময় কৃষি আইন বনাম কৃষক উত্থান

     

     

     এই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আন্দোলনকারী কৃষকদের মুখ বন্ধ করার জন্য জাল এবং মিথ্যে সংবাদ ও ভিত্তিহীন প্রচারগুলি জনসাধারণের কাছে ক্রমাগত পরিবেশন করছেদেশের রাজধানীর সীমানায় অপেক্ষারত কৃষকদের সন্ত্রাসবাদী শত্রুদের দল হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে

     

     

    তবুও, এই পরিস্থিতির একটি বিপরীত দিকও রয়েছে। প্রতিটি ক্রিয়ার যেমন প্রতিক্রিয়া থাকে, তেমনই দ্বন্দ্বীয় পদ্ধতির মাধ্যমে জন আন্দোলনও নিজেকে পাল্টাতে থাকে। সরকার যত সমস্ত রকমের যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দিতে চায়, কৃষকরা ততই নতুন নতুন পথ খুঁজে বের করে আনে যোগাযোগের জন্য সরকারের সঙ্গে বিরোধের পরিসরটি ক্রমশ প্রশস্ত হচ্ছে। একদিকে সরকার যেমন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ নৃশংসভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে, তেমনই আন্দোলনকারীদের নিজেদের মধ্যে একটা বাঁধন গড়ে উঠছে, যা আগে দেখা যায়নি। এটি সামাজিক আচরণের একটি সুপরিচিত বৈশিষ্টভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে যেমন মানুষের মধ্যে বাঁধন এবং পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব এমনিই গড়ে ওঠে। এটা হওয়ার ফলে কিছু দিন আগে যা অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল, তা এখন সম্পূর্ণভাবে সম্ভব বলে মনে হচ্ছে

     

     

    মানুষে মানুষে সংহতির অপরিসীম ক্ষমতা স্বৈরাচারী রাষ্ট্রক্ষমতাকে রুখে দিতে পারে যখন সমাজের প্রচলিত বিভাজনকে মানুষ কাটিয়ে উঠতে শেখেসম্ভবত বিশ্বের অন্য কোনও দেশের থেকে ভারতে অনেক বেশি এরকম ফল্ট লাইন বা বিভাজন রেখা রয়েছে ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ স্লোগানের আওতায় এগুলি নিয়ে গর্ব করার রীতি আছেকথাটা শুনতে ভাল। তবে একটি আন্দোলনের আসল শক্তি এই রকম স্লোগানের উপর নির্ভর করে না।

     

    আরও পড়ুন: জনজোয়ার শাসকের আদেশ মানে না

     

     

    এই বৈচিত্র্যগুলিকে বুদ্ধি দিয়ে পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত সংহতি গঠন করা হয়। এই কৃষকদের আন্দোলন সম্পর্কে সর্বাধিক লক্ষণীয় বিষয় হল, এটি স্বাভাবিক বোধের দ্বারা চালিত, কোনও তাত্ত্বিক ভিত্তির উপর দাঁড়ানো নয়। এ কারণেই এটি রাজনৈতিক দলগুলির থেকে আলাদা। যদি এটি অব্যাহত থাকে, তবে সম্ভবত এটির শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। শুধু তাই নয়, সম্ভবত এটি ভারতীয় রাজনীতির জন্য একটি নতুন দিক খুলে দিচ্ছে। বসন্তের আগমন তাই এখনই অনিবার্য বলে মনে হচ্ছে

     

     

    হিন্দু সমাজ যেন বর্ণ এবং উপ-বর্ণের দিক দিয়ে এক সামাজিক বিভাজনের গোলকধাঁধা। তবে, মূলত শিখ কৃষকদের দ্বারা এই আন্দোলনের নেতৃত্বের অবস্থান এই দৃষ্টিকোণ থেকে একটি অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছিল। এটি শুধু যে দেশে সংখ্যালঘু রাজনীতির ভবিষ্যত রয়েছে, তা স্পষ্ট করেছিল তাই নয়, সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে এনেছিল। তা হল পাঞ্জাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তফসিলি জাতির কৃষক রয়েছে (প্রায় এক-তৃতীয়াংশ), যাদের মধ্যে রয়েছে ছোট থেকে বড় জমির মালিক জাঠ কৃষকরা এবং ভূমিহীন মজুরি উপার্জনকারী দলিতরা। শ্রেণি ও বর্ণ বিভাজন ভারতের অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও ভীষণ ভাবে মিলে যায়

     

     

    কৃষকরা সীমান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিবির স্থাপন করায়, ‘সকলের সেবা’-এর গুরুদ্বার সংস্কৃতি খাওয়া-দাওয়া এবং একসঙ্গে কাজ করার মতো বাধা কিছুটা ভাঙল। তবে এটি কেবলমাত্র প্রতীকীই থাকত, যতক্ষণ না এই বার্তাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের (PDS) সাহায্যে দরিদ্রদের জন্য উপলব্ধ কৃষি পণ্যের মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস (MSP) আসলে খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থারই দুটো দিক

     

     

    তিনটি আইনের মধ্যে আরও ভাল করে দেখলে এটা স্পষ্ট হয় যে, সরকার এমএসপিকে বৈধতা দিতে অস্বীকার করার জন্য খাদ্য সুরক্ষা ভাবনাটাকেই ভেঙে ফেলতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ অত্যাবশ্যক কৃষিপণ্যের বাণিজ্যের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ উঠিয়ে নেওয়ার ফলে বেসরকারি সংস্থার মুনাফা লোটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে। করমুক্ত কৃষিপণ্যের কারবারের (এমনকি ইলেক্ট্রনিক কেনাবেচার) রাস্তাও খুলে দেওয়া হয়েছে।

     

     

    আইনগুলি বাতিলের জন্য কৃষকদের সমর্থনের ভিত্তি আরও প্রশস্ত হতে শুরু করেছে। কারণ দলিত ভূমিহীন এবং অর্ধ-ভূমিহীন কৃষক শ্রমিকরাও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ভারত জুড়ে এর নাটকীয় বিস্তার শুরু হয়, যখন হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের প্রচলিত ‘খাপ’ পঞ্চায়েতগুলি (যা উচ্চবর্ণের ঘাঁটি ছিল) ‘মহাপঞ্চায়ত’ তৈরি করে সবাইকে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়

     

     

    তিনটি কৃষি আইনের বর্জনের পাশাপাশি, হিন্দু রাষ্ট্রের প্রধান স্তম্ভ মনুবাদী মতবাদ ভাঙতে শুরু করেছে। মহিলারা সবসময় কৃষিকাজে বিশাল ভূমিকা পালন করে। তারাও আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করে, কখনও ট্র্যাক্টর চালিয়ে, কখনও বা বাসে বা হেঁটে এসে। এই আন্দোলনে তারা শীর্ষস্থানীয় অবস্থান নিয়েছে। শিল্পে ট্রেড ইউনিয়নগুলি ছাড়াও তরুণ শ্রমিক-কর্মীদের নেতৃত্বে স্বতন্ত্র ট্রেড ইউনিয়নগুলি সহ বেশ কিছু মানুষ, যারা সদ্য জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে তারাও যোগ দিয়েছে। বিশেষত পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মুসলিম কৃষকরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সাম্প্রতিক স্মৃতি পিছনে ফেলে রেখে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে

     

     

    এমন সংহতি এর আগে দেখা যায়নি, এমনকি গান্ধী ও নেহেরুর নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের সময়ও হয়নি। এটি ভগত সিংয়ের দর্শনের কথা স্মরণ করায় এবং সুভাষ বসুর নেতৃত্বে আইএনএ-র কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়, বিশেষত সিংঘু সীমান্তে দেখা দুটি প্রিয় ছবিযেহেতু এই আন্দোলনটিতে একটি সর্বভারতীয় চরিত্র পেরিয়ার এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের নামগুলিও প্রধানত প্রদর্শিত হয়েছে, তাই এই আন্দোলন বিপ্লবী এবং সংস্কারবাদী সংগ্রামের মধ্যে মিথ্যা বিভাজনকে ভেঙে দিয়েছে। সকল উসকানি ও হুমকি সত্ত্বেও কৃষকদের আন্দোলন একটি বিচ্ছিন্ন, শান্তিপূর্ণ গণ-সংগ্রাম হিসাবে দাঁড়িয়েছে

     

    আরও পড়ুন: কৃষকের আয় তো দ্বিগুণই হয়েছে!

     

     

    কৃষকদের নেতারা জনগণকে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বাংলায় নির্বাচনের ফলাফল থেকে স্পষ্ট এখানকার মহিলা, মুসলিম এবং নিচু জাতের মানুষেরা মোদীর দেখানো মিথ্যে সংহতির কথায় বিশ্বাস তো করেইনি, উল্টে মোদী সরকারের দম্ভ চূর্ণ করেছে

     

     

    যুদ্ধ জয় এখনও হয়নি। উভয় পক্ষেই নিজের শক্তি সংহত করার কাজ করছে। বেশিরভাগ বিরোধী রাজনৈতিক দল কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন করেছে, তবে তারা আন্দোলনের যে চৌহদ্দি তার বাইরে থেকে গিয়েছে। যতক্ষণ না তারা কৃষিক্ষেত্র, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং গ্রামীণ বিকাশের বিষয়ে (এর মধ্যে বাংলায় তৃণমূল এবং কেরালায় সিপিএম অন্তর্ভুক্ত) কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কার্যকর কৌশল হিসাবে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট না করে, তাদের সমর্থন সাময়িক কৌশলগত জোট ছাড়া আর কিছু হতে পারে না

     

     

    অন্যদিকে হিন্দু রাষ্ট্রের প্রবক্তারা তাদের উচ্চ বর্ণের ব্রাহ্মণ্যবাদকে (আরএসএস দ্বারা) সমাজসেবার আড়ালে লুকিয়ে রেখেছে এবং ঘৃণ্য রাজনীতির অস্ত্র প্রয়োগ করছে। হিন্দু রাষ্ট্রের ভিত্তি হচ্ছে কর্পোরেটদের স্বার্থ, এবং সমস্ত ভোট এবং রাজনৈতিক ঘুঁটি যা অর্থের বিনিময়ে কেনা যায়, তা কিনে ফেলা

     

     

    সরকার আস্তে আস্তে শিখছে যে অর্থ সমস্ত কিছু কিনতে পারে না বা রাষ্ট্রীয় শক্তি সমস্ত মতবিরোধকে দমন করতে পারে না। এমনকি এগুলো দিয়ে সব নির্বাচনে জিততে পারে না। কোভিড 19-এর এই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে সরকারের ব্যর্থতা জনসাধারণের ক্ষোভকে বাড়িয়ে তুলছে। প্রচারের এই যুগেও ঘটনাটি সহজ। আপনি কিছু সময়ের জন্য কিছু লোককে বোকা বানাতে পারেন, তবে আপনি সমস্ত সময়ের জন্য সমস্ত মানুষকে বোকা বানাতে পারবেন না; আপনি কিছু সময়ের জন্য কিছু ভিন্নমতকে দমন করতে পারেন, তবে আপনি সর্বকালের জন্য সমস্ত মতবিরোধকে দমন করতে পারবেন না

     

     

    অর্থ এবং রাষ্ট্রক্ষমতার সীমা রয়েছে। কৃষকদের আন্দোলনের দৃঢ় স্থিতিস্থাপকতা আস্তে আস্তে এটি প্রমাণ করছে। এবং কোভিড 19-এর বীভৎসতা যেন সেটাই দৈববাণীর মতো আমাদের সকলকে বারবার উচ্চস্বরে ঘোষণা করে জানাচ্ছে

     

    অনেক ফুল কেটে দেওয়া যেতে পারে, তবে বসন্তের আগমনকে আর বাধা দেওয়া যাবে না

     

     

    অর্থনীতিবিদ অমিত ভাদুড়ী জওহরলাল নেহরু বিশবিদ্যালয়ের (JNU) প্রাক্তন এমেরিটাস প্রফেসর, শিক্ষা কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ, আমেরিকার ম্যাসাচুসেট্স ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলোজি (MIT) এবং ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে; অধ্যাপনা সারা পৃথিবী জুড়ে। গরিব মানুষকেও উন্নয়নের জোয়ারে সামিল করার ব্রতে তাঁর কাজ।


    অমিত ভাদুড়ী - এর অন্যান্য লেখা


    পুঁজিপতিদের হাতে তামাক খাচ্ছে রাষ্ট্র, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন খোলা বাজার অর্থনীতির প্রবক্তারা।

    কৃষক আন্দোলন মানুষকে দেখাচ্ছে অর্থ আর ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের সংহতি এবং সাংগঠনিক শক্তির জয়।

    দু’জন নতুন কৃষককে ধরলে করোনার বছরে কৃষকের আয় দ্বিগুণই হয়েছে।

    কৃষি নিয়ে কৃষকের দাবিকে মর্যাদা দেওয়াই গণতন্ত্র

    ব্যক্তির ভক্ত মানেই দেশভক্ত, তাঁর বিরোধী মানেই রাষ্ট্রদ্রোহী।

    কৃষক আন্দোলন যে নতুন দিগন্ত দেখাল-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested