×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • অতীতকে জয় করেছে শ্বেতা

    শুভস্মিতা কাঞ্জী | 13-07-2021

    লড়াইয়ের মুখ শ্বেতাকাত্তি

    রেড লাইট এরিয়া বা যৌনপল্লী, শব্দটা শুনলেই ভদ্র সমাজের অনেকেরই মুখ বিকৃত হয়ে যায়। এবং এই সব জায়গা থেকে যে কোনও ট্যালেন্ট উঠে আসতে পারে, তা অনেকেরই ভাবনার বাইরেআর ঠিক সেই কারণেই হয়তো যৌনপল্লীর মানুষদের লড়াইটা আরও অনেক বেশি কঠিন। ঠিক যেমন শ্বেতাকাত্তির ছিল। কে এই শ্বেতাকাত্তি? 

     

     

    শ্বেতা মুম্বাইয়ের কামাতিপুরার এক যৌনকর্মীর সন্তান, যাঁর বেড়ে ওঠা, প্রাথমিক শিক্ষা সবই যৌনপল্লীতে হয়েছে। পড়াশোনা শেখার জন্য সহ্য করতে হয়েছে অসহনীয় অত্যাচার। তবে সঙ্গে ছিল তাঁর মা এবং আরও এক যৌনকর্মী রাধা। খুব অল্প বয়সেই শ্বেতা বুঝে যায় তাকে এই অঞ্চল থেকে মুক্তি পেতে হলে শিক্ষাকেই হাতিয়ার বানাতে হবে। অবশেষে 2016 সালে ক্রান্তি নামক এক এনজিওর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, এবং তারাই ওঁর শিক্ষার সমস্ত ভার বহন করে। পরবর্তীকালে নিউ ইউর্কের ব্র্যাড কলেজ শ্বেতাকে স্কলারশিপ দেয়। সেখানেই শ্বেতা তাঁর উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করে। শুধু তাই নয়, তিনি ইউনাইটেড নেশনস ইউথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। একদিনের জন্য কানাডার কনসাল জেনারেলের পদেও আসীন হয়েছিলেন শ্বেতা। 

     

    আরও পড়ুন: অমৃতার ‘ন হন্যতে’ হয়ে ওঠা

     

    কিন্তু হঠাৎ কেন এই শ্বেতাকাত্তির কথা? আজকাল নিউজ চ্যানেল খুললেই দেখা যায়, সন্দেহের বশে স্ত্রীকে খুন, বধূ নির্যাতন, উচ্চশিক্ষায় বাধা, বাল্য বিবাহের মতো ঘটনা। সেখানে যেন শ্বেতা বাকিদের কাছে এক জ্বলন্ত উদাহরণ, নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করার। যৌনপল্লীর মতো জায়গা থেকে শুধুমাত্র নিজের চেষ্টায় উঠে এসে যে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করা যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন শ্বেতাআসলে সবার জীবনেই কম বেশি লড়াই থাকে। কেউ মাঝ পথে হাল ছেড়ে দেয়, তো কেউ মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। আর আমরা এই দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষদেরই মনে রাখি, চিনি, জানি, তাঁদের লড়াইয়ের গল্প শুনে উদ্বুদ্ধ হই, ঠিক যেমন শ্বেতাকাত্তির গল্প। মাত্র 22 বছর বয়সে পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে উঠে এসে আসা এক নারীর বিশ্ব জয় করার গল্প


    শুভস্মিতা কাঞ্জী - এর অন্যান্য লেখা


    বাড়ির কাজের লোককে আমরা ঠিক কতটা সম্মানের চোখে দেখি বা বিশ্বাস করি? সত্যি করে বলুন তো?

    মানুষের লোভেই আগুন জ্বলছে সিমলিপাল অভয়ারণ্য এবং অযোধ্যা পাহাড়ে।

    বিচ্ছেদের পর নতুন শুরু কি আর সম্ভব? হলে কেমন, সেই গল্পই বলল এক্সিট।

    যেমন তেমন গাছ লাগিয়ে বনসৃজন মোটেই পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান নয়।

    যৌবনের স্বপ্নগুলো বাস্তবের মাটিতে আছাড় খেয়ে ভেঙে জীবন এগিয়ে গেলেও মনে থেকে যায় সেই সোনালী দিন।

    করোনা ভীষণ খুশি তাকে আবার হেডলাইনে ফিরিয়ে আনার জন্য।

    অতীতকে জয় করেছে শ্বেতা-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested