×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • যখন খুশি ক্লাস, প্রশ্ন করলেই গেট আউট

    বিতান ঘোষ | 09-09-2021

    প্রতীকী ছবি।

    কোভিডের আগে কত কিছু ছিল। এই যেমন প্রতিদিনের স্কুল আর হইহই করা ক্লাসরুম। একটা নির্দিষ্ট সময়ের স্কুল আওয়ার ছিল। মহামারী ক্লাসরুমে তালা ঝোলাল, এখন স্কুল আওয়ারটাও বেমালুম হাওয়া হয়ে গেছে। একটু সহজ করে বলা যাক। আগে স্কুলে রুটিন মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট শিক্ষকরা ক্লাস নিতেন। এখন অনলাইন ক্লাসে চলে আপন সময় মতেঅর্থাৎ, শিক্ষকদের একাংশের খেয়ালখুশিতে কখনও ক্লাস হয় ভোর 6টায়, কখনও বা রাত 8.30টায়। অথচ, স্কুলের নির্দিষ্ট সময়ে এই শিক্ষকরা নাকি বেজায় ব্যস্তথাকেন!

     

     

    অষ্টম শ্রেণির জনৈক ছাত্র ঘুম জড়ানো চোখে বেতারের মহিষাসুরমর্দিনী শোনার ঢং-এ অনলাইনে ইতিহাসের ক্লাস করতে বসে। তারপর আধো ঘুমে, আধো জাগরণে কখন ক্লাইভ এসে সিরাজদৌলাকে হারিয়ে দিল সে বুঝতে পারে না। একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী তিয়াসার। বাড়ির একমাত্র স্মার্টফোনটি পর্যায়ক্রমে বাবা ও দাদার কাছে থাকার পর তার কাছে আসে, তারপর অনলাইন ক্লাস শেষ হলে তা বাবার কাছে ফিরে যায়। এতকাল তাই চলে এসেছে। কিন্তু ইদানীং তিয়াসার স্কুলের শিক্ষক রাত 8টায় ক্লাস নেওয়ার কথা বলায় আতান্তরে পড়েছে সে। গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের অনেকের কাছেই এই সময়টা রাত বলেই মনে হয়। অনেকেই এই সময় রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নেয়। তাছাড়া স্কুলের নির্ধারিত সময়ে ক্লাস না হয়ে, এমন অদ্ভুত সময়ে ক্লাস কেন নেওয়া হয়, তাও তাদের অবোধ মন বোঝে না

     

     

    সমস্যার এখানেই শেষ নয়। অনলাইন ক্লাস চলাকালীন নাকি বহু শিক্ষকই পড়ুয়াদের প্রশ্ন শুনতে চাইছেন না। কোনও অবোধ প্রশ্ন করলেই নাকি, তাকে ক্লাসের জন্য তৈরি করা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বার করে দেওয়া হচ্ছে। এমন নয় যে ঘটনাগুলো নেহাতই বিচ্ছিন্ন কিংবা বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন। মফঃস্বলে মূলত মাধ্যমিক স্তরের বহু পড়ুয়াই এমন অভিযোগ করছে। শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় দীর্ঘদিন গবেষণাধর্মী কাজ করে আসা, প্রতীচী ট্রাস্টের সাবির আহমেদ এই প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘অনলাইন ক্লাস যে বিকল্প নয়, সে কথা তো বারবার প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে। সরকারের তরফে এই বিষয়ে একটা নির্দিষ্ট গাইডলাইনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা না থাকায়, পড়ুয়া কিংবা শিক্ষক— উভয়ের একটা বড় অংশের মধ্যেই ঢিলেঢালা মনোভাব দেখা যাচ্ছে।' সাবির আরও জানালেন, ‘শুধু মফঃস্বলের সরকারি স্কুলেই নয়, কলকাতার অনেক নামজাদা স্কুলেও কোনও পড়ুয়া অনলাইন ক্লাসে প্রশ্ন করলে, শিক্ষক বা অন্যান্য সহপাঠীদের ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাকে।'

     

    আরও পড়ুন: জীবনের 9 বছর কেড়ে নিচ্ছে দূষণ!

     

    শিক্ষা আলোচনা উদ্যোগের সদস্য কুমার রানা দীর্ঘদিন শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে নিরলস কাজ করে চলেছেন। তাঁর মতে, গলদ রয়েছে গোড়াতেই। আক্ষেপের সুরে তাঁর বক্তব্য, ‘করোনার আগেও শিক্ষকরা ছাত্রদের প্রশ্ন শুনতেন না। বকেঝকে ছাত্রকে বসিয়ে দেওয়া হত। এখন কোভিডকালের অনলাইন শিক্ষায় এই প্রবণতা আরও বেড়েছে।' তাঁর আরও বক্তব্য, ‘পড়াশোনা শব্দটির মধ্যেই আছে পড়া আর শোনা, এই দু'টি শব্দ। কিন্তু শিক্ষকরা কি আদৌ ছাত্রদের কথা শোনেন? তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভাবেন? আসলে শিক্ষকদের একটু শিক্ষণের প্রয়োজন আছে।'

     

    শহরতলির একটি স্কুলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ছবি।

     

    এই প্রসঙ্গে খামখেয়াল হুড়ুমতালে ক্লাস নেওয়া শিক্ষকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কমবেশি তাঁদের প্রত্যেকেরই বক্তব্য, ‘আমাদের নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়।' প্রশ্ন ওঠে, প্রাক-কোভিড সময়ে কি তবে তাঁরা অখণ্ড অবসর উদযাপন করতেন? তাছাড়া স্কুলের নির্দিষ্ট সময়েই কি তাঁদের এই ব্যস্ততা বেড়ে যায়? তবে, অন্ধকার সুড়ঙ্গপথের শেষে আলোকরেখাও নিশ্চয়ই আছে। অধিকাংশ শিক্ষকই হয়তো এই মহামারীপীড়িত প্রতিকূল সময়ে শিক্ষার তরণীকে বেয়ে যাচ্ছেন। অন্তর্জালের ওপারে থাকা পড়ুয়াটির যাবতীয় প্রশ্ন, কৌতূহলের সমাধান করছেন। তবু রয়ে যাচ্ছেন মুষ্টিমেয় এই শিক্ষকরাও, যাদের ব্যস্ততায়আর অসহিষ্ণুতায় পড়ুয়া বঞ্চিত হচ্ছে তার দৈনন্দিন পঠনপাঠন থেকে।

     

    শহরতলির আর একটি স্কুলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ছবি।


    বিতান ঘোষ - এর অন্যান্য লেখা


    শ্রীরামপুরের গির্জা বলতে ভোলা ময়রা এই সেন্ট ওলাফস গির্জার কথাই বলেছেন

    বিশ্বের পুরুষ প্রধানরা আজ সঙ্কটের দিনে যখন দিশাহীন, তখন সঠিক পথ দেখাচ্ছেন মহিলা রাষ্ট্রপ্রধানই।

    গুলি, বন্দুক, আরবান নকশাল— আন্দোলন ঠেকাতে শাসকের উপকরণগুলি একই।

    জীবনের সায়াহ্নে এসে পরিচিত মানুষদের শঠতা, কৃতঘ্নতায় আঘাত পেয়েছিলেন বিদ্যাসাগর।

    বন্‌ধ হরতালময় শহরে এমন দিনগুলোয় সচরাচর ছেলেরা পথে ক্রিকেট খেলে, স্থানীয় চায়ের ঠেকে আড্ডা জমে।

    নিউ নর্মাল সময়ে মহামারী অনেক কিছু বদলে দিয়ে গেলেও বাঙালির এই চিরায়ত অভ্যাসে বদল আনতে পারেনি।

    যখন খুশি ক্লাস, প্রশ্ন করলেই গেট আউট-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested