×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • শুধু দিবস পালন নয়, বসুন্ধরার যত্ন নিতে হবে

    শুভস্মিতা কাঞ্জী | 23-04-2022

    প্রতীকী ছবি।

    শাপে বর হয় শুনেছি, গত দু'বছর সেটা দেখিয়েও দিল। ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের রিপোর্ট, নানান উদ্যোগ যেমন ক্লিন এয়ার, নমামি গঙ্গে, পরিবেশের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রভৃতি কোনও কিছুই মানুষ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারকে জলবায়ু পরিবর্তনের খারাপ প্রভাবগুলো আটকানোর জন্য সচেতন এবং সচেষ্ট করে তোলেনি। সঠিক এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসলে মানুষকে পরিবেশ এবং উন্নয়নের মধ্যে যখন একটা বেছে নিতে হয়েছে, তখন সে বারবার উন্নয়নকেই বেছে নিয়েছে। এবং উন্নয়নের পথে ক্লিন এনার্জি সোর্স ব্যবহার না করে খারাপ এনার্জি সোর্স যেমন কয়লা, খনিজ তেল প্রভৃতির উপর ভরসা রেখে মানুষ ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে এগিয়ে চলেছে।   

     

    মহামারীর প্রকোপে একে একে বন্ধ হয়ে গেল স্কুল, কলেজ, অফিস, কারখানা, সমস্ত কিছুই। স্তব্ধ হয়ে গেল জীবন। শুরু হল নতুন করে বাঁচা। গৃহবন্দি হয়ে থাকার দিন। আর এই গৃহবন্দি থাকার দিনগুলোই যেন আমাদের বুঝিয়ে এবং দেখিয়ে দিয়ে গেল দূষণ এবং অতিরিক্ত হাইড্রোকার্বনের ব্যবহারের ফলাফল আমাদের নিত্য জীবনে কী প্রভাব ফেলে।

     

    লকডাউন শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্ব জুড়ে দূষণের মাত্রা চোখে পড়ার মতো কমল। এর একটাই কারণ, পৃথিবীর মোট কার্বন নিঃসরণের এক চতুর্থাংশ ঘটে পরিবহন থেকে। বিশ্ব জুড়ে লকডাউনের ফলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। একই সঙ্গে বন্ধ ছিল কলকারখানা। ফলে দূষণের মাত্রা ব্যাপক হারে হ্রাস পায় তখন। বাতাসে কমে যায় 2.5 মাইক্রোমিটার পার্টিকুলেট ম্যাটার। এর ফলে বাতাসের মানের উন্নতি হয়। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং নাসার উপগ্রহ চিত্রেও ধরা পড়ে দূষণ হ্রাস পাওয়ার ছবি। 

     

    ভারতের সাহারানপুর, এমনকি বাংলাদেশ থেকেও দেখা মেল হিমালয়ের। ধোঁয়াশে এবং ঘোলাটে আকাশের বদলে উজ্জ্বল নীল আকাশ দেখা যেতে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আলো এবং বায়ু দূষণ আমাদের থেকে যে রাতের আকাশ কেড়ে নিয়েছিল তা আবার ফিরিয়ে দেয় এই করোনা। তারা ভর্তি আকাশ দেখার জন্য তখন আর হিমালয়ের কোনও ফাঁকা দূষণমুক্ত গ্রামে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। বাড়ির ছাদ থেকেই তা প্রত্যক্ষ করা গেছে। নানা পাখি, পতঙ্গের দেখা মেলে। বন্য পশুরাও পথে নামে। পুরুলিয়ার পথে দেখা মেলে ময়ূরের, অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমের রাজ্য এবং পুনের রাস্তায় দেখা মেলে নীলগাইয়ের। 

     

    আরও পড়ুন: গ্রহদের প্যারেড

     

    করোনা আমাদের, অর্থাৎ মানব জাতির অনেক ক্ষতি করেছে, প্রাণ নিয়েছে বহু, উন্নয়নের গতি শ্লথ করেছে, স্তব্ধ করেছে জীবন। তবে প্রাণ ফিরিয়ে উজ্জীবিত করেছে প্রকৃতিকে। করোনা আমাদের বুঝিয়েছে আমরা চাইলে দূষণ রোধ না করতে পারলেও কমাতে পারি। কিন্তু চাই না যেন। অথচ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখার মতো দৃপ্ত কণ্ঠে আমরাও বলি, ‘এ পৃথিবীকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি।‘ কিন্তু করি কোথায়? ভাবি কখন? তবে কি আমরা পারি না আমাদের ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য একটা সুস্থ, স্বাভাবিক পৃথিবী রেখে যেতে? পারি। করোনার সময় সচেতন হয়ে দূষণ কমানো গেলেও অন্যান্য সময়েও তা সম্ভব।

     

    2020 সালের মাঝামাঝি নিউ ইয়র্কে কার্বন মনোক্সাইডের নিঃসরণ 50 শতাংশ হ্রাস পায়। চিনে প্রায় 25 শতাংশ দূষণ কমে, যেখানে করোনার আগে সেখানে প্রায়ই স্কুল, কলেজ ছুটি দিতে হত দূষণের জন্য। দূষণের কারণে দৃশ্যমানতা কমে যায় বলে গাড়ি অবধি চালানো যায় না চিনে। দিল্লিতে যেখানে 2019এর শেষ দিকে দূষণের কারণে নাগরিকদের মাস্ক পরে ঘোরার আবেদন জানানো হয়েছিল, সেখানেও বাতাসের মানের উন্নতি ঘটে।

     

    নন রিনিউয়েবল এনার্জি রিসোর্সের বদলে রিনিউয়েবল এনার্জি রিসোর্স ব্যবহার করতে হবে। সূর্য রশ্মি, বাতাস, জল এগুলোকে কাজে লাগিয়েও এনার্জি তৈরি করা যায়। সুইডেন, এস্টোনিয়া, ফিনল্যান্ড প্রভৃতি দেশে রিনিউয়েবল এনার্জি ব্যবহার করে হাইড্রোকার্বন নিঃসরণ কমিয়েছে প্রায় 60 শতাংশ। তামিলনাড়ু, গুজরাতে হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বিকল্প পথ কিন্তু জানা, কিন্তু তাও কেন সেটাকে সঠিক ভাবে বহুল ব্যবহার করা হয় না? বৃষ্টির জল ধরে রেখে আজও কেন শুষ্ক জায়গায় সেটা কাজে লাগানো হয় না? ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করছি, কিন্তু তা পূরণ করার দায় কার? এই বিকল্প পথের মাধ্যমেই উন্নয়নও ঘটবে, আবার প্রকৃতির ক্ষতিও হবে না।

     

    বসুন্ধরা এক বছরের বেশি কিছু সময় সেলফ হিলিং মোডে ছিল। একটু পুনরুজ্জীবিত হয়েই সে আবার পুরোদমে কাজে ফিরেছে। কিন্তু তাকে যদি আবারও টেকেন ফর গ্র্যান্টেড করে নিয়ে অত্যাচার চালানো হয়, তাহলে কিন্তু ‘বসুন্ধরা’র আরও অবনতি ঘটবে। তাই বিশ্ব বসুন্ধরা দিবসে শুধুই মিটিং-লেকচার, বড় বড় বাণী নয়, প্রকৃতিকে সত্যি কী করে ভাল রাখা যায়, তার উন্নতি সাধন ঘটানো যায়, তা-ই ভাবা এবং মেনে চলা উচিত। 

     


    শুভস্মিতা কাঞ্জী - এর অন্যান্য লেখা


    সচেতনতা এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনা দিয়ে সিকদামাখাই গ্রামের মানুষ রুখে দিল করোনাকে।

    সমাজে নানান ভ্রান্ত ধারণা থাকে, তাদেরই একটা হল মোটা মানেই অসুন্দর।

    পারলে কংক্রিটের ছাদের তলায় আশ্রয় নিন, খোলা মাঠে থাকলে উপুর হয়ে শুয়ে পড়ুন।

    এই বিপদে জনপ্রতিনিধিরা ব্যস্ত রাজনীতি নিয়ে, নাগরিকরাই একে অন্যের পাশে থেকে কঠিন লড়াই লড়ছে।

    যেমন তেমন গাছ লাগিয়ে বনসৃজন মোটেই পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান নয়।

    কলকাতার শরৎকাল, শারদোৎসব সবই বদলেছে, বদলেছে রেডিওতে মহালয়া শোনার অভ্যেস, তবে সবটা কি বদলে গেছে?

    শুধু দিবস পালন নয়, বসুন্ধরার যত্ন নিতে হবে-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested