×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • রিভিউ: Wonder Woman 1984

    রজত কর্মকার | 05-01-2021

    ওয়ান্ডার উওম্যান ছবিতে গাল গাদো।

    লোভে পাপ পাপে মৃত্যু, মূল বার্তা এটাই

     

    কাস্ট: গাল গাদো, ক্রিস পাইন, ক্রিস্টেন উইগ, পেদ্রো পাস্কাল, কোনি নিয়েলসন

    পরিচালক: প্যাটি জেনকিন্স

     

    রেটিং: 3.5/5

     

    কতটা পেলে তুমি সন্তুষ্ট হবে? বেশিরভাগ মানুষ এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবেন না। কারণ প্রত্যাশা, চাওয়া-পাওয়ার সমীকরণ একটা সময় লোভে পরিণত হয়। আর লোভের কোনও সীমা থাকে না। আরও চাই, আরও চাইয়ের দৌড়ে তা ক্রমশ জীবনের বাকি সব অনুভূতিকে গ্রাস করতে থাকে। এটাই চরম বাস্তব। কবি তো কবেই বলে গিয়েছেন, ‘এ জগতে হায় সেই বেশি চায়...’

     

    কিন্তু যার কিছুই নেই, এমনকী আত্মবিশ্বাসটাও ঠিকমতো মনের জমি খুঁজে পায় না, তিনি যদি হঠাৎ করে অনেক কিছু পেয়ে যান, তবে তা আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে চান। সেখানে যদি ঈশ্বরের বিরুদ্ধেও তাঁকে লড়তে হয়, তিনি লড়বেন। এমনই একজন ব্যক্তিত্ব বারবারা মিনার্ভা (ক্রিস্টেন উইগ)। তবে জীবন যদি আপনাকে কিছু দেয়, আপনার থেকে কড়ায়-গন্ডায় তার সমপরিমাণ কেড়েও নেয়। জীবনের এই দাঁড়িপাল্লার মাপের উপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে জগৎ।

     

     

    এ নিয়মের কোনও অন্যথা হয় না। নিয়ম পাল্টাতে গেলেই আসে সর্বনাশ। এই সর্বনাশা খেলায় মেতে গোটা বিশ্বকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল লর্ড (পেদ্রো পাস্কাল)যে খেলার অংশ হয়ে যান স্বয়ং ডায়ানা প্রিন্স, যাকে আমরা ওয়ান্ডার উওম্যান (গাল গাদো) নামেই চিনি। মৃত মনের মানুষকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খায় যুক্তি-বুদ্ধিকে বিসর্জন দিয়ে হারাতে বসেছিলেন নিজের সবচেয়ে বড় মূলধন। নিজের শক্তি, অক্ষয় যৌবন। অন্য দিকে, হঠাৎ করে অসীম ক্ষমতা পেয়ে মনুষ্যত্ব হারাতে বসেন বারবারানিজের অসীম ক্ষমতাকে ধরে রাখতে মারণ খেলায় ম্যাক্সওয়েলের ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ হয়ে দেখা দেন তিনি। এই টানাপোড়েনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয় তা গোটা বিশ্বকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। এর থেকেই কী ভাবে পরিত্রাণ পান সকলে তা নিয়েই সিনেমা।

     

    সুপারহিরোদের কি কোনও শখ-আহ্লাদ থাকতে নেই? তাঁরা কি কেবল মানবজাতির কল্যাণে গোটা জীবন উৎসর্গ করতেই ধরাধামে অবতীর্ণ হন? না, একেবারেই না। ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী হলেও সুপারহিরোদের জীবনে প্রেম ঘুরে ফিরে এসেছে। ডি সি কমিক্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই সুপারহিরো ব্যাটম্যান এবং সুপারম্যানের জীবনে মনের মানুষ রয়েছেন। একই ভাবে ‘ওয়ান্ডার উওম্যান’ সিনেমায় ডায়ানার মনের মানুষ হিসাবে স্টিভ ট্রেভর (ক্রিস পাইন) ছিলেন। কিন্তু একবার যে হারিয়ে যায় তাকে আঁকড়ে ধরা যায় না। তিনি অনন্ত ক্ষমতার অধিকারী হলেও আঁকড়ে ধরতে পারবেন না। এই বার্তাটি সিনেমায় খুব ভালো ভাবে দিয়েছেন পরিচালক প্যাটি জেনকিন্স।

     

    সুপারহিরো মুভিতে স্পেশাল এফেক্ট সবচেয়ে বড় সাপোর্টিং চরিত্র হিসাবে কাজ করে। এ সিনেমাতেও তার অন্যথা হয়নি। সিনেমাটি একটু বেশি সময়ের, ফলে অনেকেই দেখতে গিয়ে সামান্য বোর হতে পারেন। তবে মনের কদর্য, কালো দিকটা এত প্রকট ভাবে স্ক্রিনে দেখে যদি সকলের সম্বিত ফেরে তা হলে মঙ্গল।

     

    সবার শেষে একটাই কথা বলার, যদি দুঃখ না থাকে, তবে সুখও পানসে লাগবে, তাই না। তাই সব নিয়েই বাঁচতে শিখুন। বলতে শিখুন, ‘যাক, যা গেছে তা যাক...’

     

     


    রজত কর্মকার - এর অন্যান্য লেখা


    দাদা তো ঠিকই বলেছে। হাসপাতাল বানিয়ে কী হবে? তার চেয়ে মোড়ে মোড়ে মন্দির বানালে এ দেশের কোনও অমঙ্গল হ

    এ বার নিজের দফতরের দায়িত্ব নিচ্ছেন দিয়েগো... এল দিয়েগো... দ্য গ্রেট দিয়েগো...

    দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তাদের তো গুলি করেই মারা উচিত, তাই না?

    বিগত সাড়ে তিন দশক ধরে চেরনোবিল সারা বিশ্বের বহু মানুষের কাছে কৌতুহলের বিষয়। ঠিক কী হয়েছিল সে রাতে?

    যারা প্রদেশের নামে, ভাষায় নামে, জাতের নামে, বর্ণের নামে, ধর্মের নামে, এমনকী পছন্দের খেলোয়াড়ের নামেও

    যারা আমায় মনের মধ্যে রাখতে পারে না, তারাই চিৎকার করে আমার ভক্ত বলে পরিচয় দেয়।

    রিভিউ: Wonder Woman 1984-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested