×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • সিনেমা: একান্নবর্তী

    সুদীপ্ত চ্যাটার্জি | 02-12-2021

    সিনেমা: একান্নবর্তী

    বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই, সেই রেশকেই যেন আরও কিছুটা জিইয়ে রাখতে হাজির পরিচালক মৈনাক ভৌমিক তাঁর (Moinak Bhowmik) "একান্নবর্তী' (Ekannoborti) নিয়ে। বাড়ির দুর্গাপুজোর আমেজটা তিনি ধরে রেখেছেন তাঁর নতুন ছবিতে। আধুনিক সমাজের একটি নিউক্লিয়ার পরিবার। কিন্তু, সেই পরিবারের মানুষগুলির মধ্যে সম্পর্কের সুতোগুলো একসময় ক্রমশ আলগা হতে শুরু করে। বাবা-মা আর দুই মেয়ের মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা। সবটাই রুপোলি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন মৈনাক।

     

     

    স্বামীর কাছ থেকে প্রতারিত হওয়ার অপমানটা হজম তো করেছেন, কিন্তু নিজের কাছে ‘হেরে গেছি’ বলতে আজও বড় বাঁধে মালিনীর। তাই তিনি হাতড়ে বেড়ান তাঁর খামতি। তাঁর চেহারার, তাঁর গুণাগুণের খামতি। জোর করে নিজের উপর চাপতে থাকে একের পর এক খুঁতের বোঝা। কিন্তু নিজেকে বোঝালেও তাঁর দুই মেয়ে তাঁকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, তাদের মা সত্যিই নিখুঁত। অন্যদিকে মালিনীর দুই মেয়ে পিঙ্কি, শীলার জীবনবোধ, চলন ধারণ সবটাই আলাদা। একজন নিজের বাড়তি ওজনের ভারে এতটাই ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে যে, নিজের আবেগ অনুভূতি প্রকাশেও লজ্জাবোধ করে, বলা চলে জীবনের বেশিটা সময় সে নিজেকে দয়া করেই কাটায়। সে বিশ্বাস করে তার বাড়তি ওজন তাকে কারও ভালবাসার যোগ্যই রাখেনি। আর যদি কেউ তাকে পছন্দও করে, তবে তাকে ব্যঙ্গ বা করুণা বলেই মনে করে থাকে সে। অন্যজন স্মার্ট (Smart), ইন্ডিপেন্ডেন্ট (Independent), চাকুরিরতা। নিজেকে, বাড়ির নানা সমস্যা, বনকে সামলানো সবটাই নিজে করে শীলা। তবে বাইরে থেকে পারফেক্ট লাগলেও ভিতরটা মোটেও তেমন না। একটা মিথ্যে সম্পর্ককেই মনের মধ্যে নানা সন্দেহ নিয়েই বয়ে চলে সে। কিন্তু নিজেকে ঠকাতে ঠকাতে একসময় ক্লান্ত সে। একসময় ঠকে যাওয়াটাকেও স্বীকার করে শীলা। তবে কি ভাবছেন, শুধুই হারানো, ঠকে যাওয়ার গল্প একান্নবর্তী (Ekannobarti) মোটেও না। এই সব না পাওয়ার মধ্যেই তো থাকে জীবনের আসল উত্তরণ। আর ঠিক তেমনটাই হয় মালিনী, শীলা, পিঙ্কিদের সাথে। জীবনে বসন্ত শুধু এক ভাবেই, একটা নির্দিষ্ট সময়ই  আসে না। নানা সময় নানা ভাবে ঋতুরাজের আগমন হতে পারে। 

     

     

    মালিনীর মতো ঘরোয়া চরিত্রে অপরাজিতা আঢ্যর  (Aparajita Adhya) জুরি মেলা ভার,সে কথা তিনি আবার প্রমাণ করলেন। শালিনী বা শীলার চরিত্রে সৌরসেনী মৈত্র (Sourasini Maitra), সচ্ছল, এবং ভীষণ রকম স্মার্ট উপস্থিতিতে দর্শকদের নজর কাড়বে। এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ অন্যান্য সেন, পিঙ্কি এর চরিত্রাভিনেত্রী, বড় পর্দায় তার প্রথম অভিষেক, কিন্তু তার অভিনয় দক্ষতা তাকে সবার থেকে আলাদা করেছে একথা বলতেই হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় গৌরব চক্রবর্তীর (Gourab Chakraborti) অভিনয়ও দর্শকদের নজর কাড়বে। এই ছবিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখা গেছে কৌশিক সেনকে। ছবির মুকুটে পালক যোগ করেছে অলকানন্দা রায়ের উপস্থিতি। শীলা ও পিঙ্কির দিদুন, আর মালিনীর মায়ের ভুমিকায় দেখা গিয়েছে তাঁকে। ছবির গল্প সকলের কাছেই নেক্সট টু ডোর। স্বভাবতই নিজেদের সঙ্গে রিলেট করতে কোনও অসুবিধা হবে না দর্শকদের। আর তাই আবেগটা কাজ করবে বেশি। কিন্তু কাহিনী অনুযায়ী এক্সপ্রেশনে কারও কোনও খামতি নেই। শুধু নারী পুরুষের প্রেম নয়, নিজের সঙ্গে নিজের প্রেমও জীবনে বসন্ত এনে দিতে পারে। ঠিক তেমনটাই হয় আমাদের জীবনেও, আমরা হয়তো তা উপলব্ধি করি না। কিন্তু মালিনী, পিঙ্কি শীলা সেটা করবে এই ছবিতে। কীভাবে সেটা নিয়েই এগোবে ছবির গল্প তাই দেখার বিষয়!

     

     

    মূলত আটপৌড়ে বাঙালি সম্পর্কের (Bengali Relation) টানাপোড়েন, পিছুটানের মতো আবগেকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলাই ছিল ছবির উপজীব্য। আর তাতে খুব তীক্ষ্ণ সংলাপের দরকার পড়ত না। কিন্তু যেটার দরকার ছিল, তা হল মানুষের মনের আবেগের সঙ্গে একাত্ম হওয়া। তার জন্য বেশ কিছু আবেগসূচক সংলাপ, যা সঠিক জায়গায় সঠিক মাত্রায় ছিল। আরও একটা দিক দর্শকের মন ছুঁয়ে যাবে তা হল, খালি গলায় বেশ কিছু জায়গায় রবীন্দ্র সংগীতের (Rabindra Sangeet) ব্যবহার। সব মিলিয়ে সংলাপ গান, বেশ জোরালো।

     

     

    এর আগেও ‘ঘরে অ্যান্ড বাইরে’, ’চিনি’র মত পরিবারিক ছবির গল্পই উপহার দিয়েছেন পরিচালক মৈনাক ভৌমিক (Mainak Bhaumik)মধ্যবিত্ত সমাজের আবেগকে খুব ভাল ভাবেই পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে যে পরিচালক সিদ্ধহস্ত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ছবিতে কখনও কখনও কোনও সিকোয়েন্স একটু বেশি সাজানো মনে হয়ছে। যেমন হঠাৎ করে রাতের বেলা কেউ কারও পাশে এসে কথা বলতে বসলে তাকে ফ্লাক্সে রাখা চা অফার করা স্বাভাবিক, তবে পাশাপাশি নিজের কাপের পাশে আরও একটা কাপ প্রস্তুত রাখাটা ভীষণ সাজানো। এই রকম ছোট ছোট দিকে নজর দেওয়াই যেত। 

     

     

    সব মিলিয়ে ছাপোষা বাঙালির আবেগতাড়িত হওয়ার সমস্ত কাহিনীই উপজীব্য আছে এই ছবিতে। সত্যের মুখোমুখি হয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো, নিজেকে ভালোবাসার গল্প বলেছে এই ছবি। জীবনের নানা ব্যস্ততা জটিলতার মাঝে এমন ছবি যে দর্শকদের কিছুটা হলেও চিন্তামুক্তি ঘটাবেই সে কথা বিলক্ষণ বলা যায়।

     


    সুদীপ্ত চ্যাটার্জি - এর অন্যান্য লেখা


    আইন যা-ই বলুক, স্ত্রীর অসম্মতিতে বলপূর্বক যৌনসঙ্গম আদপে কিন্তু ধর্ষণই!

    হিজাব পরা ছবির জন্য বাতিল হল চাকরির আবেদনপত্র, মামলা হাইকোর্টে

    ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভারতে তার ভবিষ্যৎ

    শবরপাড়ার মেয়েরা লড়াই করতে জানে। ওদের কোনও ইনাম লাগবে না, লাগবে শুধু অধিকারটুকু

    নতুন বব বিশ্বাস যেন পুরনোর ছায়াতে চাপা পড়ে গেল,কায়া হতে পারল না।

    শীত দরজায় কড়া নাড়লেও খাদ্যরসিক বাঙালির পাতে শীতের সব্জির দেখা নেই।

    সিনেমা: একান্নবর্তী-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested