×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • কার স্বাস্থ্যের কীসের সাথী?

    শুভস্মিতা কাঞ্জী | 03-08-2021

    প্রতীকী ছবি।

    ‘দাদা মায়ের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আছে। আপনারা নেবেন তো?’ 

    ‘না। এখানে ওসব চলে না। বন্ধ হয়ে গেছে।'

    ‘কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যে....’

    ‘বললাম তো চলে না। ক্যাশ বা কার্ড বা মেডিক্লেম। ওসব স্বাস্থ্য সাথী ফাথী চলবে না।‘

     

     

    বেশিদিন নয়, মাত্র কুড়ি পঁচিশ দিন আগের কথা। মায়ের তখন হুহু করে অক্সিজেন লেভেল নামছে। 52, 48, 37পাগলের মতো এ হসপিটাল থেকে ও হসপিটাল ছুটে বেড়াচ্ছি। দক্ষিণ কলকাতার হাজরার এক বিখ্যাত হাসপাতাল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা পেশেন্ট নেবে না। অগত্যা বাধ্য হয়ে টালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছের একটি বড় হাসপাতালে ফোন করলে তারা জানায়, তারাও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নেবে না। তারপর কাছেই তৃতীয় একটি নার্সিং হোমে গেলে তাদের রিসেপশনিস্টের সঙ্গে যে কথোপকথন হয়, সেটাই শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছেউপায়ন্তর না দেখে সেখানেই অবশেষে মা’কে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু ভোটের আগে রাজ্যে সরকার ঘোষণা করেছিল, এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজে একাধিক বার বলেছিলেন যে, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে যে সব হাসপাতালের নাম লেখা, সেগুলো তো বটেই, তা ছাড়াও রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালেও এই কার্ড গ্রাহ্য করা হবে! তারা তা নিতে বাধ্য। ভোটের আগে বহু মানুষ উপকৃত হলেও, ভোটের পরই ছবিটা যেন দুম করে বদলে গেল! 

     

     

    এতদিন ভাবছিলাম আমি একাই ভুক্তভোগী। কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়ে জানতে পারি আমি একা নই, আমার মতো আরও অনেকেই আছেন। 

     

     

    অপূর্ব মণ্ডল জানান, তিনি তাঁর বাবাকে ইএম বাইপাসের ধারে একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও এই কার্ড গ্রহণ করেনি। তাঁদের ক্যাশ টাকা দিয়েই পেশেন্টকে ভর্তি করতে হয়। 

     

    আরও পড়ুন: প্রাণদায়ী অক্সিজেন বণ্টনের তথ্য গোপন করছে মোদী সরকার

     

    অন্যদিকে, জনৈক রজনী ব্যানার্জি জানান, তাঁর বাবা করোনায় আক্রান্ত হলে সল্টলেকের একটি বিখ্যাত হার্ট ক্লিনিকে ভর্তি করানোর সময় ক্যাশ 68,000 টাকা জমা করতে হয়। এবং পরবর্তীকালে আর এই কার্ড সেই হাসপাতাল গ্রহণ করেনি। বাকি বিলের টাকাও তাঁদের ক্যাশেই মেটাতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘আমার এক প্রতিবেশী বৌদি, অত্যন্ত গরীব। তার গলব্লাডার অপারেশনের সময়েও এই কার্ড নেয়নি নিউ ব্যারাকপুর মিউনিসিপ্যালিটি হাসপাতাল। গরীব মানুষের যদি উপকারই না হয় তাহলে কেন এই প্রকল্প? বৌদির বর প্যারালাইসড। সে কোনও সুবিধা পেল না, অথচ একজন পার্টি করে বলে একই দিনে, একই হাসপাতালে তার পরিবার এই কার্ডের সুবিধা পেল।'

     

     

    হ্যাঁ, এমনই অভিযোগ তুলেছেন রজনী। যদিও আমরা মায়ের সময় পরিচিত রাজনৈতিক নেতাদের যোগাযোগ ব্যবহার করে, তাদের ‘সোর্স কাজে লাগিয়েও এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধা পাইনি। তবে কি বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের পার্টি মেম্বার হলে তবেই এই কার্ডের সুবিধা মিলবে? আর কেনই বা ভোট মিটতেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আর মানা হচ্ছে না?

     

     

    বর্তমান সময়ে যাদের ESI, মেডিক্লেম অথবা অন্য কোনও স্বাস্থ্য বিমার সুযোগ নেই, তাদের জন্যই বিশেষ করে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তারা কি এখন কোনও সুবিধাই পাবে না? এটা কি শুধুই ভোটের সময়ের জন্য বলবৎ ছিল? যদি তাই হয় তাহলে কেন বলা হয়েছিল রাজ্যের সর্বত্র এর সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে? কেন তখনই স্পষ্ট করে দেওয়া হল না একমাত্র কার্ডে উল্লিখিত হাসপাতালেই এই সুযোগ পাওয়া যাবে। এই হেনস্থার মানে কী?

     

     

    প্রশ্ন থাকলেও উত্তর নেই। ভোটের আগে যে প্রকল্প সাধারণ মানুষের মধ্যে দারুন সাড়া জাগিয়েছিল, আজ কার্যত সেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধা পাচ্ছে এমন মানুষের সংখ্যা শহর কলকাতায় অন্তত ভীষণই কম।


    শুভস্মিতা কাঞ্জী - এর অন্যান্য লেখা


    সাহারা, থর মরুভূমিতে জন্ম নেওয়া নতুন গাছ আখেরে প্রকৃতির ক্ষতি করছে।

    সমকামিতার ইঙ্গিতপূর্ণ বিজ্ঞাপন তুলে নেবে না জানিয়ে সদর্থক বার্তা ক্যাডবেরির।

    যেমন তেমন গাছ লাগিয়ে বনসৃজন মোটেই পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান নয়।

    ছোটু আর বান্টির স্বপ্ন কি ওদের গিন স্কিন পূরণ করতে পারবে?

    ভোট মিটতেই ভোল বদল! রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে মিলছে না পরিষেবা।

    ঘরবন্দি মানুষ সাইবার প্রতারণার সহজ শিকার হচ্ছেন।

    কার স্বাস্থ্যের কীসের সাথী?-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested