×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • তথ্যই নেই, পথ্য মিলবে কীসে?

    বিতান ঘোষ | 02-07-2021

    কথা রাখে না সরকার, রেললাইনে মরাই যেন ভবিতব্য পরিযায়ী শ্রমিকদের।

    সরকারি গুদামে খাবার আছে, তাও পেটে খাবার নেই। দেশে অযুত লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক দৃশ্যমান, অথচ তাদের সম্পর্কে সরকারের কাছে কোনও তথ্য নেই। এই আছে আর নেই-এর এমনই গোলকধাঁধায় বাঁধা পড়েছে দেশের পরিযায়ী শ্রমিক এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে যুক্ত শ্রমিকরা। এদিকে সরকারকে এই নিয়ে বহু প্রস্তাব, অনুরোধ-উপরোধ করা হলেও, তিনি নিদ্রা গিয়েছেন’, তাঁর কর্ণকুহরে কিছুই প্রবেশ করছে না। এমতাবস্থায় দেশের শীর্ষ আদালত গত 29 জুন সরকারের এমন নিশ্চল ভূমিকাকে ক্ষমার অযোগ্যবলে চিহ্নিত করে নির্দেশ দিয়েছে, জুলাই মাসের মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিক এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে যুক্ত শ্রমিকদের জন্য একটি জাতীয় তথ্যপঞ্জি তৈরি করতে হবে

     

     

    স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বন্ধুয়া মুক্তি মোর্চার একটি আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং এমআর শাহের বেঞ্চ এই বিষয়ে একাধিক নির্দেশ জারি করেছে। যার মধ্যে ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস সেন্টারের সহায়তায় এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে, অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য তথ্যপঞ্জি তৈরি করা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও এক দেশ, এক রেশন নীতির দ্রুত রূপায়ণের লক্ষ্যে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের 9 নং অনুচ্ছেদের প্রয়োগ করার জন্যও কেন্দ্রকে বিবেচনা করার কথা বলেছে শীর্ষ আদালত। রাজ্যগুলির চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত শুকনো খাবার সরবরাহের জন্যও ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য এবং শ্রম মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বার্ষিক রিপোর্ট বলছে, 2019-20 অর্থবর্ষে দেশে 296.65 মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে, যা এখনও পর্যন্ত সর্বকালীন রেকর্ড। অথচ, গত বছর লকডাউনেও আমরা দেখেছি পরিযায়ী শ্রমিকরা সামান্য খাবার ও পানীয়র জন্য লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছে, বুভুক্ষু অবস্থায়, অবসন্ন শরীরে পথেই শুয়ে মারা গেছে অনেকে

     

    আরও পড়ুন: রাজনৈতিক বিরোধিতা রোগ ন

     

    গতবছর পরিযায়ী শ্রমিকদের এমন বিয়োগান্তক পরিণতি দেখে যখন সারা দেশ উত্তাল, তখন সরকারকে কিছুটা নড়েচড়ে বসতে দেখা গিয়েছিল। তারপর দেখা গেল, সরকার ক্ষতে মলম দিতে চায়, কিন্তু ক্ষতটা ঠিক কোথায় তাই তো সরকার জানে না। কোন রাজ্যে কত পরিযায়ী শ্রমিক সেই তথ্য সরকারের ঘরে নেই, সরকার সবটুকুই বীজগণিতের অঙ্কের মতো অজানা রাশি এক্স ধরে হিসেব করছে। সংখ্যাটা ঠিক কত? সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের পরিসংখ্যান একটা অন্যটার বিপরীত। বেসরকারি ভাবে করা সমীক্ষাগুলির ফলও ভরসাযোগ্য নয়। সুপ্রিম কোর্ট 2020 সালের জুন মাসেই কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল, দ্রুত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কিছু সামাজিক প্রকল্প তৈরি করতে এবং তাদের নিয়ে একটি অভিন্ন তথ্যপঞ্জি বানাতে। তারপর কেটে গেছে গোটা একটা বছর। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা আবারও কর্মহীনতার সম্মুখীন হয়েছেন, কিন্তু সরকারের খাতায় নাম না থাকায় সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন

     

     

    চলতি বছরের গোড়ার দিকে শ্রম মন্ত্রকের অধীনস্ত লেবার স্ট্যান্ডিং কমিটি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। "Social Securities and welfare measures for migrant workers' শীর্ষক রিপোর্টে কমিটি সারা দেশ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে তথ্যসংগ্রহ এবং তাদের জীবনের মানোন্নয়নে পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছিল। শ্রমমন্ত্রক কমিটিকে জানিয়েছিল, 2020 সালের জুন মাসে সারা দেশে 88,04,839 জন পরিযায়ী শ্রমিক আছে। কিন্তু কমিটি পরে জানায়, এই তথ্য এবং পরিসংখ্যানগুলো পাওয়া গেছে বিভিন্ন রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির কাছ থেকে। এবং আন্তঃরাজ্য পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা নিয়ে প্রদত্ত তথ্যগুলোর মধ্যে প্রচুর ভ্রান্তি এবং পরস্পরবিরোধিতা আছে। তাই কেন্দ্রীয় ভাবে একটা তথ্যপঞ্জি তৈরি করার প্রস্তাব তখনই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার তখনকার মতো এই বিষয়ে মাথা ঘামায়নি

     

     

    তবে, সরকারের তরফে এই কথা না রাখার নিদর্শন আরও অনেক রয়েছে। যেমন, নির্মাণ শ্রমিকদের জীবনের মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যে,  2018 সালে বিচারপতি মদন বি লোকুর এবং দীপক গুপ্তের বেঞ্চ কেন্দ্রকে 2বছরের পুরনো দু'টো আইন প্রয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছিল। যার একটি হল, ‘Regulation of Employment and Conditions of Service Act 1996’ এবং অন্যটি হল ‘Building and Other Construction Workers’ Welfare Cess Act 1996’নির্মাণ শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের জীবন ও জীবিকার উন্নতির জন্য শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে একটি ওয়েলফেয়ার ফান্ড এবং জাতীয় তথ্যপঞ্জি তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিল। আরও বলেছিল, প্রত্যেক নির্মাণ শ্রমিকের একটি করে সচিত্র পরিচয়পত্র তৈরি করতে হবে

     

    আরও পড়ুন: পথেই পড়ে পরিযায়ী শ্রমিক

     

    অনেকেরই আফসোস, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ বাস্তবে প্রয়োগ হলে করোনাকালীন পরিযায়ী সংকটকে রুখতে পারত সরকার। সরকারের কাছে নেহাত কিছু কালো মাথা হিসাবে পরিগনিত হওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের এভাবে পথেঘাটে মরে পড়ে থাকতে হয়তো হত না। যে সরকারের গরুদের আধার কার্ড করার জন্য এত উৎসাহ, সেই সরকারেরই আবার অসংগঠিত ক্ষেত্রে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের তথ্যপঞ্জি তৈরি করতে তীব্র অনীহা। সমান্তরাল ভাবে দেশের অর্থনীতিকে পুষ্ট করে আসা পরিযায়ী শ্রমিক সহ অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা তাই সরকারের কাছে কিছু কাল্পনিক সংখ্যামাত্র। তারা আছে অথচ নেই। কেউ কথা রাখেনি, কেউ কথা রাখে না।'


    বিতান ঘোষ - এর অন্যান্য লেখা


    দাদাজ্বি ভাইপোকে 'ভাতিজা', পিসিকে 'বুয়া', সরস্বতী পুজোকে 'বাসন্তী পুজো' বলেন!

    ক্রমশ ছোট হতে থাকা পৃথিবীটা যেন হঠাৎই আবার বিশাল বড় হয়ে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফিরে যাচ্ছে

    হঠকারিতায় বিচ্ছিনতাবাদের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে ফেললে তাকে বন্ধ করা মুশকিল।

    রুখা মরুতেও ফুল ফুটবে, তালিবানের সমার্থক শব্দ ফতোয়া নয়, প্রেম হবে।

    দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সঙ্ঘ এবং মহাসভা আগাগোড়া অনুপস্থিত থেকেছে

    প্রবাসী সন্তানের অভাব ভুলিয়ে সন্তানের মতোই প্রবীণদের আগলাচ্ছেন তুর্ণীরা।

    তথ্যই নেই, পথ্য মিলবে কীসে?-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested