×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • শাসকের জন্য বিজ্ঞাপনের রেটও সস্তা!

    দ্য রিপোর্টার্স কালেকটিভ | 18-03-2022

    নিজস্ব ছবি।

    ফেসবুক কংগ্রেসের থেকে কম দামে বিজেপির বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে

     

    সারাংশ: ভারতে ফেসবুকের বৃহত্তম রাজনৈতিক ক্রেতা বিজেপিকে কম টাকায় আরও ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর অনুমতি দিয়েছিল ফেসবুক

     

    লিখছেন কুমার সম্ভব এবং নয়নতারা রঙ্গনাথন

     

    22 মাসের 10টি নির্বাচন জুড়ে যে বিজ্ঞাপনগুলো দেওয়া হয়েছিল তার খরচের একটি বিশ্লেষণ প্রকাশিত করা হয়, সেখানে দেখা যায় ফেসবুকের অ্যালগরিদম ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির তুলনায় সস্তায় বিজ্ঞাপনের লেনদেন অফার করেছিল। 2019 সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ যে 10টি নির্বাচনের মধ্যে নয়টিতে বিজেপি জিতেছিল সেখানে বিজেপিকে বিরোধীদের তুলনায় বিজ্ঞাপনের জন্য কম টাকা দিতে হয়েছিল।

     

    সঠিক মূল্য নির্ধারণের ফলে ভারতে ফেসবুকের বৃহত্তম রাজনৈতিক ক্রেতা হয়ে ওঠে বিজেপি, কম অর্থের বিনিময়ে আরও ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর অনুমতি দেয় ফেসবুক।

     

    দ্য রিপোর্টার্স কালেক্টিভ (TRC), ভারতের একটি অলাভজনক মিডিয়া সংস্থা, ফেব্রুয়ারি 2019 এবং নভেম্বর 2020 এর মধ্যে ফেসবুকে দেওয়া 536,070টি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। TRC অ্যাড লাইব্রেরি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (API), মেটার (META) ‘স্বচ্ছতা’ টুল, যা এর প্ল্যাটফর্ম জুড়ে সমস্ত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের তথ্য ব্যবহার করতে দেয়।

     

    ফেসবুক বিজেপি, তার প্রার্থী এবং অনুমোদিত সংস্থাগুলির কাছ থেকে তাদের বিজ্ঞাপন 10 লক্ষ বার দেখানোর জন্য 41,844 টাকা নিয়েছে। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস, তার প্রার্থী এবং সহযোগী সংগঠনগুলির বিজ্ঞাপনগুলিকে একই সংখ্যকবার দেখার জন্য 53,776 টাকা দিতে হয়েছিল, অর্থাৎ বিজেপির থেকে প্রায় 29 শতাংশ বেশি।

     

    আমরা প্রাথমিকভাবে বিজেপিকে কংগ্রেসের সঙ্গে তুলনা করেছি কারণ তারা রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে সবথেকে বেশি খরচ করে। 22মাসের সময়কালে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি এবং এর সহযোগীরা তাদের অফিসিয়াল পেজগুলির মাধ্যমে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য মোট 10 কোটি 40 লাখ টাকা খরচ করেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং এর সহযোগীরা ব্যয় করেছে 6 কোটি 44 লাখ টাকা।

     

    কিন্তু ফেসবুক অতিরিক্ত মাত্রায় কংগ্রেসকে চার্জ করেছে, যদি বিজেপিকে দেওয়া হারে বিজ্ঞাপনের মূল্য নির্ধারণ করা হয় তবে একই সংখ্যক ভিউয়ের জন্য কংগ্রেসকে 1 কোটি 17 লক্ষ বেশি টাকা দিতে হত।

     

    এই সিরিজের 2 অংশে আমরা দেখিয়েছি যে, কীভাবে ফেসবুক বিপুল সংখ্যক ভৌতিক এবং সারোগেট বিজ্ঞাপনদাতাদেরকে বিজেপির হয়ে প্রচারের জন্য অনুমতি দিয়েছে, নির্বাচনে তার উপস্থিতি এবং অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছতে সাহায্য করেছে, এমনকি এটি বিরোধী দলের প্রচারকারী প্রায় সমস্ত বিজ্ঞাপনদাতাদের এবং প্রার্থীদের ব্লকও করেছে।

     

    যদি আমরা দলগুলোর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সারোগেট বিজ্ঞাপনের মূল্য অন্তর্ভুক্ত করি, তাহলে বিজেপি যে চুক্তিটি করেছিল তা আরও মধুর ঠেকবে! বিজেপির প্রচারকারী সমস্ত বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য, ফেসবুক একটি বিজ্ঞাপনে 10 লাখ ভিউয়ের জন্য গড়ে 39,552 টাকা চার্জ করে, কিন্তু কংগ্রেসের প্রচারকারী সমস্ত বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য গড়ে 52,150 টাকা চার্জ করে, প্রায় 32 শতাংশ বেশি।

     

    এই ফলাফলগুলি সুপ্রিম কোর্টের উত্থাপিত উদ্বেগকেই জোরালো করে যে ফেসবুকের নীতি এবং অ্যালগরিদম সহ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি নির্বাচনী রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের জন্য বেশ ভয়ের।

     

    "নির্বাচন এবং ভোটদানের প্রক্রিয়া, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তি, যা বর্তমানে সোশাল মিডিয়া ম্যানিপুলেশনের দ্বারা হুমকির সম্মুখীন,’ গত বছর জুলাই মাসে ফেসবুকের বিরোধিতাকে প্রত্যাখ্যান করে সুপ্রিম কোর্ট এটি বলেছিল। 2020 সালের দিল্লি দাঙ্গার সময় ঘৃণা ছড়ানোর প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ফেসবুককে ব্যবহার করা হয়েছে, এমন অভিযোগের তদন্তের জন্য দিল্লি সরকার দ্বারা গঠিত তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত থেকে ফেসবুক এই মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল।

     

    আদালতের আদেশটি অন্যান্য দেশের, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল, কারণ 2016 সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য ফেসবুককে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেই বিশ্বাস করা হয়।

     

    বিজেপির সুবিধা

    টিআরসি তার প্রথম তথ্যসমৃদ্ধ প্রমাণ পেয়েছে যে ফেসবুকের মূল্য নির্ধারণের অ্যালগোরিদমগুলি নির্বাচনী প্রচারে বিজেপিকে এগিয়ে দিয়েছে।

     

    ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের নিউজ ফিডে সেই বিজ্ঞাপন গুলিকেই ছড়িয়ে দেয়, যেগুলি রাজনৈতিক দল বা তাদের সারোগেট বিজ্ঞাপনদাতাদের দ্বারা অর্থ প্রদান করা পোস্ট। প্রথাগত প্রিন্ট বা সম্প্রচার মিডিয়া পূর্বনির্ধারিত হারের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপনদাতাদের চার্জ করে, এর বিপরীতে ফেসবুকের মূল সংস্থা মেটা ফেসবুকের নিউজফিডের রিয়েল-টাইম নিলাম এবং এর অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের স্থানের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যাপকভাবে বিভিন্ন মূল্য চার্জ করে। টার্গেট অডিয়েন্স বিজ্ঞাপনদাতারা ঠিক করতে পারলেও, ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনে একটি বিজ্ঞাপন কতবার প্রদর্শিত হবে, তা কোনও এক অস্বচ্ছ অ্যালগোরিদম দ্বারা ঠিক করা হয়।

     

    প্রধানত দু'টি জিনিসের উপর ভিত্তি করে অ্যালগোরিদম একটি বিজ্ঞাপনের মূল্য নির্ধারণ করে: লক্ষ্য দর্শকদের চোখ কতটা মূল্যবান এবং লক্ষ্য দর্শকদের কাছে বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু কতটা "প্রাসঙ্গিক’। তবে, মেটা সুনির্দিষ্ট গণনা প্রকাশ করে না, যা একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনের মূল্য নির্ধারণে যায়।

     

    বিজ্ঞাপনগুলিতে ব্যয় করা অর্থ এবং তাদের প্রাপ্ত মতামত সম্পর্কে TRC-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে 10টি নির্বাচনের মধ্যে যে নয়টি আমরা পর্যালোচনা করেছি, ফলাফল একই ছিল: বিজেপির জন্য একটি ভাল চুক্তি।

     

    ইমেলে পাঠানো একাধিক প্রশ্নের উত্তরে মেটা কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের বিষয়ে জানায় যে, তারা রাজনৈতিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে তাদের নিয়মবিধি সমানভাবে অনুসরণ করে চলে। ফেসবুকের নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করা কিংবা বিষয়বস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ ব্যক্তির মতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তা সেই ব্যক্তির মত কোম্পানির নীতির সঙ্গে সাজুয্যপূর্ণ হোক বা না হোক।

     

    মেটার তরফে আরও জানানো হয়, ফেসবুকে বিধিবদ্ধ অনৈতিক আচরণের মোকাবিলায় তারা তাদের কাজ 2019 এর পরেও জারি রেখেছে, এবং এই কাজ তারা থামাবে না।

     

    সারণী-1

     

    2019 সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিন মাসের প্রচারে, যা ওড়িশা, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম এবং অন্ধ্র প্রদেশের রাজ্য নির্বাচনের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল, ফেসবুকের অ্যালগোরিদম  বিজেপি এবং তার প্রার্থীদের 10 লাখ ভিউয়ের জন্য গড়ে 61,584 টাকা চার্জ করেছে। অথচ  একটি বিজ্ঞাপনের একই সংখ্যক ভিউয়ের জন্য কিন্তু কংগ্রেসকে 66,250 টাকা  দিতে হয়েছিল।

     

    2019 সালে উত্তর ভারতের রাজ্য হরিয়ানায় নির্বাচনের জন্য তিন মাসের প্রচারাভিযানের সময়, কংগ্রেস এবং তার প্রার্থীরা গড়ে 10 লাখ ভিউয়ের জন্য ফেসবুককে 42,303 টাকা দিয়েছে। কিন্তু বিজেপি এবং তার প্রার্থীরা একই সংখ্যক ভিউয়ের জন্য মাত্র 35,856 টাকা দিয়েছে।

     

    সেই বছরের পরে বছর পূর্বের রাজ্য ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনে, বিজেপি এবং তার প্রার্থীরা তাদের বিজ্ঞাপনে প্রতি 10 লাখ ভিউয়ের জন্য 34,905 টাকা দিয়েছিল যখন কংগ্রেস এবং তার প্রার্থীরা একই সংখ্যার জন্য 51,351 টাকা বা 47 শতাংশ বেশি অর্থ প্রদান করেছিল।

     

    2020 দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে, কংগ্রেস এবং এর প্রার্থীরা ফেসবুককে গড়ে 10 লাখ ভিউয়ের জন্য 39,909 টাকা দিয়েছে। কিন্তু বিজেপি একই সংখ্যক ভিউয়ের জন্য মাত্র 35,596 টাকা দিয়েছে। আম আদমি পার্টি (এএপি), বিজেপির আর এক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং যে দল শেষ পর্যন্ত দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে জিতেছিল, তাদের প্রতি 10 লাখ ভিউয়ের জন্য সর্বোচ্চ 64,173 টাকা চার্জ করা হয়েছিল, যা বিজেপির প্রদেয় অর্থের থেকে 80 শতাংশ বেশি।

     

    2020 সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে, বিজেপি যেখানে প্রতি 10 লাখ ভিউতে 37,285 টাকা ব্যয় করেছিল, সেখানে কংগ্রেসকে একই সংখ্যক ভিউতে পৌঁছানর জন্য 45,207 টাকা খরচ করেতে হয়েছিল। একই নির্বাচনে বিহারে বিজেপির আঞ্চলিক জোটসঙ্গী জনতা দল ইউনাইটেড-কে প্রতি 10 লাখ ভিউয়ের জন্য সর্বোচ্চ 66,704 টাকা চার্জ করা হয়েছিল। কংগ্রেসের আঞ্চলিক জোটসঙ্গী রাষ্ট্রীয় জনতা দল অবশ্য কোনও বিজ্ঞাপন দেয়নি।

     

    শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে কংগ্রেস একটি সস্তা চুক্তি করেছিল যেখানে, এটি 10 লাখ ভিউয়ের জন্য 38,124 টাকা দিয়েছিল আর বিজেপি তিন মাসের প্রচারে মাত্র 43,482 টাকা দিয়েছিল।

     

    ভারতীয় নির্বাচনী আইন প্রার্থীদের প্রচারাভিযানের ব্যয়ের উপর একটি সীমাবদ্ধতা রাখে, যাতে নির্বাচনী লড়াইটা একটি সমান খেলার মাঠে করা হয়। কিন্তু ফেসবুক বিজেপি এবং তার প্রার্থীদের প্রতি এক টাকার জন্য ক্রমাগতভাবে অন্যান্য দলের থেকে বেশি লোকের কাছে পৌঁছনোর অনুমতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজেপির জন্য এই অন্যায্য সুবিধা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিচ্ছে।

     

    “প্রচারের জন্য ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য মূল্য বিকৃতির যে কোনও প্রমাণ ইসিআই-এর তদন্তের জন্য একটি উপযুক্ত বিষয় এবং মি: নিক ক্লেগের (ব্রিটেনের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী, যিনি এখন মেটাতে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনস-এর ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন) এবং অন্যান্য টেক জায়ান্টের সঙ্গে একটি গুরুতর কথোপকথনের নিশ্চয়তা দেয়।” মিশি চৌধুরী, সফটওয়্যার ফ্রিডম ল সেন্টারের নিউইয়র্কের প্রযুক্তি আইনজীবী এবং আইনি পরিচালক বলেছেন, ""একটি আদর্শ আচরণবিধি তখনই মূল্যবান হয়, যখন এটি ক্ষমতায় থাকা শাসক দল কর্তৃক দল ও ব্যক্তি নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ কর।'' তিনি নির্বাচনী প্রচারাভিযান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ECI আরোপ করা নিয়মগুলির উল্লেখ করেন।

     

    রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় সমান খেলার ক্ষেত্র বজায় রাখার গুরুত্বের উপর ভারতীয় আইনি ইতিহাসে বরাবর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 1975 সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর লোকসভা নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করে, কারণ এটিতে গান্ধী "ন্যূনতম’ সুবিধাটি লাভ করেছিলেন, একটি দুর্নীতিগ্রস্ত অনুশীলনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদালত বলেছে যে ‘’প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের দ্বারা নির্মিত রোস্ট্রামটি তাকে একটি প্রভাবশালী অবস্থান থেকে সভাকে সম্বোধন করতে সাহায্য করেছিল এবং তাই একটি দুর্নীতিগ্রস্ত অনুশীলন,’’ জনস্বার্থের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ তার বইতে ‘মামলা যাতে কেঁপে উঠল ভারত’-এলিখেছেন।

     

    বিজেপির প্রধান মুখপাত্র অনিল বালুনি এবং দলের আইটি সেল ও সোশাল মিডিয়া শাখার প্রধান অমিত মালব্যকে এই বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলেও তাদের তরফে কোনও জবাব মেলেনি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকেও এই মর্মে প্রশ্ন করা হলে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

     

    আমরা কীভাবে ডেটা অ্যাক্সেস করেছি এবং বিশ্লেষণ করেছি

    সিরিজের পার্ট 2-এ আমরা বিশদ বিবরণ দিয়েছি কীভাবে আমরা ফেব্রুয়ারি 2019 এবং নভেম্বর 2020-এর মধ্যে ফেসবুক-এ স্থাপিত 536,000-এরও বেশি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের জন্য বিজ্ঞাপনদাতার ডেটা অ্যাক্সেস করেছি এবং সেগুলিকে রাজনৈতিক শিরোনামের অধীনে গোষ্ঠীবদ্ধ করেছি।

     

    বিজেপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে ফেসবুক দ্বারা চার্জ করা বিজ্ঞাপনের হারের তুলনা করতে, আমরা প্রতিটি নির্বাচনের জন্য প্রতিটি দলের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বিজ্ঞাপনদাতাদের দ্বারা সমস্ত বিজ্ঞাপনের জন্য মোট ব্যয় এবং মোট ভিউ গণনা করেছি৷ আমরা প্রতিটি পক্ষের জন্য প্রতি 10 লাখ ভিউয়ের খরচ গণনা করতে এই সমষ্টিগত পরিসংখ্যান ব্যবহার করেছি।

     

    বিজ্ঞাপন লাইব্রেরি একটি বিজ্ঞাপনের সঠিক খরচ বা ভিউ প্রকাশ করে না। প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য, এটি 0-500 থেকে শুরু করে 999,500-1,000,000 পর্যন্ত 500-এর পরিসরে ব্যয় এবং দর্শনের পরিসংখ্যান প্রদান করে। আমরা আমাদের গণনার জন্য সেই গড়গুলি ব্যবহার করেছি। লাইব্রেরিতে কয়েকটি বিজ্ঞাপন ছিল যা ফেসবুক বলেছে 10 লাখেরও বেশি ভিউ পেয়েছে, এবং যার জন্য 10 লাখটাকারও কিছু বেশি খরচ হয়েছে৷ আমরা এমন সমস্ত বিজ্ঞাপন বাদ দিয়েছি যেগুলির একটি নির্দিষ্ট উচ্চ পরিসর ছিল না।

     

    বাকি বিজ্ঞাপনগুলির জন্য, কংগ্রেস এবং তার প্রার্থীরা 98 কোটি 48 লাখ ভিউ পেতে 5 কোটি 29 লাখ টাকা খরচ করেছে। কিন্তু বিজেপি এবং তার প্রার্থীরা মাত্র 4 কোটি 2 লাখ খরচ করেছে এবং তাদের বিজ্ঞাপনের জন্য 100 কোটি ভিউ পেয়েছে। আমরা এই পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে উভয় পক্ষের জন্য প্রতি 10 লাখ ভিউয়ের খরচ গণনা করেছি।

     

    নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি অ্যাড অবজারভেটরি দ্বারা অ্যাক্সেস করা অ্যাড লাইব্রেরি এপিআই ডেটার অনুরূপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা 2020 সালের মার্কিন নির্বাচনে জো বিডেনের প্রচারাভিযানের থেকে কম বিজ্ঞাপনের দাম পেয়েছে।

     

    অ্যাড অবজারভেটরি প্রকল্পের প্রধান গবেষক লরা এডেলসন, যিনি আমাদের তদন্তের পদ্ধতি এবং ফলাফল পর্যালোচনা করেছেন, বলেছেন, এই ফলাফলগুলি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈষম্য দেখায় যা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর ক্ষমতার জন্য গুরুতর পরিণতি ঘটায়। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বিগ্ন যে কারওরই এই ফলাফলগুলি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত এবং ফেসবুকে তাদের প্ল্যাটফর্মটি রাজনৈতিক বক্তৃতার জন্য সমান ক্ষেত্র হতে পারে তা নিশ্চিত করতে কাজ করা উচিত।

     

    কিন্তু ফেসবুকের অ্যালগরিদম কেন বিজেপির পক্ষে? এই সিরিজের পার্ট 4 প্রকাশ করবে কীভাবে ব্যবহারকারীদের তাদের নিউজফিডে আবদ্ধ রাখার জন্য ডিজাইন করা এই গোপন ব্যাপারটি ভারতের ক্ষমতাসীন দলকে নির্বাচনী প্রচারে প্রতিযোগিতা কমাতে সাহায্য করে।

     

     

    কুমার সম্ভাব এবং শ্রীগিরীশ জলিহাল দ্য রিপোর্টার্স কালেক্টিভের (www.reporters-collective.in) সদস্য। নয়নতারা রঙ্গনাথন অ্যাড ওয়াচ (www.ad.watch) -এর সঙ্গে যুক্ত একজন গবেষক। এই লেখাটি মূলত আল জাজিরা (www.aljazeera.com)-তে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়েছিল।

     

     


    দ্য রিপোর্টার্স কালেকটিভ - এর অন্যান্য লেখা


    লোকসভা আর ন'টি রাজ্য বিধানসভা ভোটের সময় খবরের মোড়কে নির্বাচনী প্রচারে লাভবান হয়েছে বিজেপি!

    ফেসবুকের অ্যালগোরিদমে সমান সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্য বিজেপি-র বিজ্ঞাপনের খরচ অন্যদের থেকে কম!

    নিজস্ব বিচারে বেশি প্রাসঙ্গিক মনে করলে ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের রেট কমে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে বিজেপি দলের হিসে

    শিখন্ডী কোম্পানি খাড়া করে লোকসভা সহ বিভিন্ন ভোটে বিজেপি-র হয়ে প্রচারে কোটি কোটি টাকা ঢেলেছে জিও!

    শাসকের জন্য বিজ্ঞাপনের রেটও সস্তা!-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested