×
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও
  • আমরা

  • ক্রিপ্টোকারেন্সির রমরমা কি শেষের পথে?

    সুদীপ্ত চ্যাটার্জি | 28-11-2021

    প্রতীকী ছবি।

    ইয়ে ক্রিপ্টো, ক্রিপ্টো ক্যায়া হ্যায়...বেশ কিছু দিন আগে পর্যন্তও এই ক্রিপ্টোকারেন্সি (cryptocurrency)।

     

    সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। কিন্তু হঠাৎই এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) উদ্বেগপ্রকাশের পর থেকে তা উঠে আসে খবরের শিরোনামে, হয়ে ওঠে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

     

     

    ইতিমধ্যেই এই ডিজিটাল মুদ্রার অপব্যবহার কী ভাবে বন্ধ করা যেতে পারে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উঁচুমহলে চিন্তাভাবনা চলছিল। তার ফলস্বরূপ আগামী সোমবার, 29 নভেম্বর লোকসভার (Lok Sabha) শীতকালীন অধিবেশনের (Winter session) শুরুর দিনই তিন কৃষিবিল প্রত্যাহারের পাশাপাশি আরও 26টি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে চলেছে মোদী সরকার যার মধ্যে অন্যতম 'দ্য ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অফিসিয়াল ডিজিটাল কারেন্সি বিল 2021'(The Cryptocurrency And Regulation Of Official Digital Currency Bill 2021)এই বিলের মাধ্যমে বেসরকারি ডিজিটাল মুদ্রাগুলির রাশ টানতে চলেছে ভারত সরকার।

     

     

    অবশ্য এর আগেও 2018-র জুলাই নাগাদ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India) বিটকয়েন-সহ সব ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে 2020 সালে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) আরবিআই-এর(RBI) নিষেধাজ্ঞা সরানোর নির্দেশ দেয়। এর পর থেকে রমরমিয়ে চলতে থাকে এই ডিজিটাল মুদ্রার ব্যাপক লেনদেন। তবে, এত কিছু হওয়ার পরেও 'ক্রিপ্টোকারেন্সি', 'মাইনিং' বা 'ব্লকচেইন' ইত্যাদি শব্দবন্ধ আমজনতার কাছে অনেকটাই দুর্বোধ্য রয়ে গিয়েছে। এ সম্পর্কে ধারণাটা একটু পরিষ্কার করা যাক!

     

    ক্রিপ্টোকারেন্সি কী?

     

    ক্রিপ্টোকারেন্সি হল এক ধরনের ডিজিটাল কারেন্সি। এই কারেন্সি কোন সরকার বা রাষ্ট্র উৎপাদন বা জোগান দেয় না। বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যুক্ত থেকে মাইনিং করতে হয়। আর এই মাইনিং প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জটিল সব এলগোরিদম, ব্লক এবং ক্রিপ্টোগ্রাফি সম্পন্ন করেই এক একটি কয়েন বানাতে হয়। সংকেত রীতি বিদ্যা বা ক্রিপ্টোগ্রাফি থেকে যে এমন একটি মুদ্রা আবিষ্কার করা সম্ভব, সেটা গবেষকেরা জেনেছেন আশির দশকে। কিন্তু কয়েকটি সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হন তাঁরা। 2008 সালে অজানা এক গবেষক সুচারু ভাবে সে সব সমস্যার সমাধান দিয়ে একটি গবেষণাপত্র ইন্টারনেট ফোরামে পাঠান। বিস্ময়কর ভাবে তাঁর সমাধান কাজে লাগে। তাঁর সমাধানের নাম ব্লকচেইন। ব্লকচেইন এলগোরিদমের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় একটি কয়েন জেনারেট হতে প্রথম দিকে সময় খুব কম (মনে করুন 5 মিনিট) লাগলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর জটিলতা বাড়তে থাকে। এক সময় দেখা যায় একটি কয়েন জেনারেট হতে সময় নেয় 15 দিন বা 30 দিনেরও বেশি। উদাহরণ: Bitcoin, OneCoin, Litecoin, Ripple, Dogecoin ইত্যাদি।

     

     

    সাধারণ কারেন্সির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। এই যেমন টাকা, রুপি, ইউরো, ডলার, পাউন্ড ইত্যাদি। এই সব মুদ্রা দেশ ভেদে এক এক রকম হয়। এদের উৎপাদন এবং নিয়ন্ত্রণও সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক করে থাকে। এই মুদ্রার সরবরাহ ইচ্ছেমতো বাড়াতে কমাতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কয়েন-এর বেশি জেনারেট করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ Onecoin সর্বোচ্চ 2.1 বিলিয়ন কয়েন জেনারেট করতে পারবে। আমাদের সাধারণ মুদ্রা টাকা, ডলারের মান যেমন এক নয় এবং মান স্থির থাকে না, তেমনই সব ক্রিপ্টোকারেন্সির মান এক নয় এবং মান স্থির থাকে না। যতটুকু জানা যায়, Bitcoin যখন বাজারে আসে তখন তার প্রারম্ভিক দর ছিল $10-এর মতো।

     

    ক্রিপ্টোকারেন্সি কবে শুরু হয়েছিল?

     

    ক্রিপ্টোকারেন্সি 2009 সালে শুরু হয়েছিল। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি হল বিটকয়েন এবং এর সঙ্গেই ক্রিপ্টোকারেন্সি নামটি প্রকাশ্যে আসে। বিটকয়েনটি তৈরি করেছিলেন জাপানের এক ইঞ্জিনিয়ার শাতোসি নাকামোটো। বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে হাজারেরও বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে।

     

    এ প্রসঙ্গে একটি বিখ্যাত ঘটনার কথা জানা যায়, 2010 সাল নাগাদ লাজলো হেইঞ্জ নামে এক ব্যক্তির কাছে থাকা 10,000 বিট কয়েন দিয়ে 2টি পিৎজা কিনেছিলেন। সম্ভবত বিটকয়েন দিয়ে এটাই সর্বপ্রথম কোনও পণ্য ক্রয় ছিল। বিটকয়েনের ভবিষ্যৎ তিনি বুঝতে পারেননি। মাত্র ৩ বছরের মধ্যেই প্রতিটি বিটকয়েন-এর দাম দাঁড়ায় প্রায় 1200 USD

     

    ক্রিপ্টোকারেন্সি কী ভাবে কাজ করে?

     

    ক্রিপ্টোকারেন্সি মূলত ব্লকচেইনের মাধ্যমে কাজ করে, অর্থাৎ, লেনদেনের রেকর্ড এটিতে রাখা হয়। শক্তিশালী কম্পিউটার এ সব পর্যবেক্ষণ করে, একে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং বলা হয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বলতে বোঝায়, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে এর কেনাবেচা হয়। Binance, coinbase, wazirX, Coin one, crypto.com সহ আরও বেশ কয়েকটি বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ রয়েছে।

     

    ব্লকচেইন কী?

     

    ক্রিপ্টোকারেন্সি 'ব্লকচেইন' প্রযুক্তি উপর ভিত্তি করে চলে। যেখানে লেনদেনের পুরো হিসাব রাখা হয়। বাঙালিরা ব্লকচেইনকে ‘খেরোর খাতা’র সঙ্গে তুলনা করতেই পারেন। এই ব্লকচেইনের মাধ্যমে ডিজিটাল কারেন্সি মাইনিং হয় এবং যাঁরা করেন তাঁদের মাইনারস বলা হয়। ক্রিপ্টোতে যখন কোনও লেনদেন হয় সেই লেনদেন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য রেকর্ড করা থাকে ব্লকচেইনে।

     

    কয়েকটি বড় ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম হিসাবে বলা যেতে পারে, Bitcoin (BTC), Ethereum (ETH), Ripple (XRP), Monero (XMR), Cosmos (ATOM), Binance coin (BNB), Polkadot (DOT), Uniswap (UNI), Cardano (ADA), Tether (USDT), Litecoin (LTC) ইত্যাদি।

     

    ভারতে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার কী রকম?

     

    সাম্প্রতিক বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে দেড় থেকে দু’কোটি মানুষ ক্রিপ্টোতে  বিনিয়োগ করেছেন। যে বিনিয়োগের বাজারমূল্য প্রায় 400 বিলিয়ন ডলার। বড় বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলির মাধ্যমে বিটকয়েন সমেত অনেক বড় মুদ্রা নিয়ে ব্যবসা হয়।

     

     

    খুব সহজে কোনও পরিশ্রম ছাড়াই ধনী হতে কে না চায়? আর ঠিক সেই সুপ্ত বাসনাকে কেন্দ্র করেই পাতা হয়েছে বড়সড় ফাঁদ! সম্প্রতি ভারতীয় বাজারে এই সমস্ত ডিজিটাল মুদ্রার বাড়বাড়ন্ত চোখে পড়ার মতো। বিশেষত যুবসমাজের মধ্যে এই ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেনের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে, যাতে সিঁদুরে মেঘ দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারি কোনও রকম বিধিনিষেধ না থাকায় বিভিন্ন লোভনীয় বিজ্ঞাপন, যাতে বাতলে দেওয়া হচ্ছে মিনিটে কোটিপতি হওয়ার ফর্মুলা। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বারংবার সচেতন করেছেন, এ ফাঁদে পা দিলে নিঃস্ব হওয়া কেউ ঠেকাতে পারবে না, এমনই মত তাঁদের। এমনকি, এই মুদ্রার লেনদেন বন্ধ না করা গেলে এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদে ফান্ডিং-এর কাজও চলতে পারে, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

     

    আরও পড়ুন: আকাশছোঁয়া বাজারদর, ব্যাগ ভরাতে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের

     

    কোনও রকম আইন প্রণয়ন করে এই বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেন প্রতিরোধ সম্ভব নয় তা উপলব্ধি করেই কেন্দ্রীয় সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণাধীনে আনতে চাইছে বেসরকারি ডিজিটাল মুদ্রাগুলিকে। আগামী সোমবার পেশ হতে চলেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি রেগুলেশন বিল। এর পর দেখার বিষয় ডিজিটাল মুদ্রার এই অবাধ্য গতিতে কতটা রাশ টানতে পারল কেন্দ্রীয় সরকার! ইতিমধ্যেই এই বিলের খবর সামনে আসার পরেই একধাক্কায় গড়ে 15 শতাংশ দাম পড়েছে ডিজিটাল মুদ্রাগুলির। বিটকয়েনে বাজারমূল্য পড়েছে 18.53 শতাংশ। এথেড়িয়াম 15.58 শতাংশ ও টেথারের দাম নেমেছে 18.29 শতাংশ। ডিজিটাল মুদ্রা সংক্রান্ত সাইট কয়েনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার বিটকয়েনের দামে পতন হয়েছে 55 হাজার 460 ডলার।

     

     

    এত দিন যাবৎ এ সমস্ত ডিজিটাল মুদ্রায় চুটিয়ে বিনিয়োগ করে এসেছেন বহু ভারতীয় বিনিয়োগকারী। তাঁদের মতে, সরকার উল্টে গেলেও এই বিশ্বব্যাপী ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন বন্ধ করা অসম্ভব! কারণ ক্রিপ্টোকারেন্সি নাকি ভবিষ্যতের মুদ্রা। এ দাবি কতটা সত্যি তা অবশ্য সময়ই বলবে।

     


    সুদীপ্ত চ্যাটার্জি - এর অন্যান্য লেখা


    শীত দরজায় কড়া নাড়লেও খাদ্যরসিক বাঙালির পাতে শীতের সব্জির দেখা নেই।

    ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভারতে তার ভবিষ্যৎ

    হিজাব পরা ছবির জন্য বাতিল হল চাকরির আবেদনপত্র, মামলা হাইকোর্টে

    নতুন বব বিশ্বাস যেন পুরনোর ছায়াতে চাপা পড়ে গেল,কায়া হতে পারল না।

    ভারতীয় রাজনীতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে পরিবারতন্ত্র, তবে এর সমালোচনা বিজেপির মুখে মানায় না

    শবরপাড়ার মেয়েরা লড়াই করতে জানে। ওদের কোনও ইনাম লাগবে না, লাগবে শুধু অধিকারটুকু

    ক্রিপ্টোকারেন্সির রমরমা কি শেষের পথে?-4thpillars

    Subscribe to our notification

    Click to Send Notification button to get the latest news, updates (No email required).

    Not Interested